জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১৬ মে:
মঙ্গলবার মেদিনীপুর সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সফরের আগে একাধিক বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। সোমবার বিকেলে খড়্গপুর শহরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ে তিনি বলেন, আমরা খুব খুশি উনি এলে রাস্তাঘাট ঠিক হয়, ইলেকট্রিকের কোনো অসুবিধা হয় না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়, দু-তিন দিন ধরে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষ্কার করা চলছে, রাস্তার গর্ত বন্ধ করা হচ্ছে, উনি ঘনঘন এলে মেদিনীপুরের লোকের খুব সুবিধা হয়, না হলে তো রাস্তাঘাট সংস্কার কিছুই হয় না, আবর্জনায় ভরে থাকে।
এই সফরের সভাতে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সে বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, উনি শুধু প্রতিশ্রুতি দেন আর শিলান্যাস করেন। যখন উনি রেল মন্ত্রী ছিলেন তখনও অনেক শিলান্যাস করেছেন, এখনো শিলাতে ওনার নাম রয়েছে বটে কিন্তু কোনও প্রকল্প হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে গাদা গাদা প্রতিশ্রুতি দেন, মুখে কোনও কিছু আটকায় না, লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকার স্বপ্ন দেখান, লক্ষ লক্ষ চাকরির স্বপ্ন দেখান, আর কিছু করেন না।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা তৃণমূল থেকে আমাদের দলে এসেছেন তাদের পিছনে পুলিশ লাগানো হচ্ছে। ওখানে অর্জুন সিং, এখানে শুভেন্দু অধিকারী, জিতেন তেওয়ারি, এইরকম যারা একটু বড় নেতা তাদের কোনো না কোনোভাবে বিরক্ত করার চেষ্টা চলছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, বঙ্গ বিজেপির প্রতি অর্জুন সিং ক্ষোভ প্রকাশ করার পর তাকে তলব করেছে জেপি নাড্ডা। উনি এখানকার বড় নেতা। তাই কেন্দ্রীয় নেতারা সেই বিষয় দেখছেন।
ব্যারাকপুরে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, শুধু ব্যারাকপুর নয় সারা রাজ্য জুড়ে এই রকম ঘটনা ঘটছে, যারা বোম বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা কাউকে ভয় পাচ্ছে না, এরাই আবার তৃণমূলকে ভোটে জেতায়, তবে তাদেরকে ধরলে তৃণমূল আর জিততে পারবে না, তাই তারা যা খুশি তাই করছে, অন্যদিকে তৃণমূল বিধায়ককে সিবিআই তলব করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর দেখা করা উচিত, তারা যা জানতে চাই সেটা জানানো উচিত, কারণ এ রাজ্যে যেভাবে হিংসা সহ ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে তাই নিয়ে জানানো উচিত, পাশাপাশি খড়্গপুরে চাষিদের বিক্ষোভ নিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কানে দেওয়া উচিত, সব জায়গায় জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে কিন্তু শিল্প হচ্ছে না, অনেক জায়গায় চাষিরা পয়সা পাইনি, সিঙ্গুরেও একই দৃশ্য দেখেছি, চাষিদের নিয়ে ছেলে খেলা হচ্ছে, এমনটাই মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ।
পাশাপাশি আগামী কাল মেদিনীপুর শহরে প্রশাসনিক বৈঠক চলাকালীন একই সময়ে মেদিনীপুর শহরে নিজের সাংসদ কোটার টাকায় একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন দিলীপ ঘোষ। এ নিয়ে রাজনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে তাঁর কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তথা জেলার কো অর্ডিনেটর অজিত মাইতি।

