আমাদের ভারত, ১০ নভেম্বর: ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে টুইট করে বিতর্কে জড়লেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার। পরে চাপে পড়ে টুইট মুছে দেন তিনি। তবে তার সেই টুইট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক।
জানা যাচ্ছে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনন্দ রঙ্গ নাথন একটি টুইট করেছিলেন। সেই পোস্টের জবাবে ব্রাহ্মণ বিরোধী বক্তব্য লেখেন জহর সরকার। তিনি লেখেন, “শিক্ষাও রুক্ষ ও জিনগতভাবে উদ্ধত ব্রাহ্মণদের সুস্থ করতে পারেনি। এই এক শতাংশ বর্ণবাদী সুবিধাভোগীদের জন্যেই ৯৯% ভারতীয়র মধ্যে ইসলাম ফোবিয়া তৈরি হয়েছে। বৌদ্ধ স্থাপত্য গুলি ধ্বংস করেছিল কারা? ব্রাহ্মণ শাসকরা।”
জহর সরকারের পোস্টটি করার পরেই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। বহু বিশিষ্টরা এই টুইটের বিরোধিতা করেন। শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী লেখেন, “একটা গোটা সম্প্রদায় সম্পর্কে আপনি ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। আপনার কথাগুলির তীব্র বিরোধিতা করছি। আপনাকে এমন টুইটের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে এবং এটা মুছে দিতে হবে।” এই একই দাবি আরো অনেকেই করতে থাকেন। পরে জহর সরকার টুইটটি মুছে দেন।
কিন্তু সুনন্দা বশিষ্ঠ নামে এক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ লেখেন,”ওই ঘৃণ্য ভাষণটি উনি মুছে দিয়েছেন। কিন্তু এই ধরণের ঘৃণ্য ভাষণের মূল্য ওনার চোকানো উচিত যা কেবল টুইট মুছলেই হয়ে যায় না।”
ইতিহাসবিদ বিক্রম সম্পদ টুইটারে লেখেন, “এটি অকল্পনীয় যে এই বর্ণবাদী এক সময় আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও প্রসার ভারতীর হয়ে কাজ করতেন। তার বিষাক্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিষ্কার কেন আমাদের সিভিল সার্ভিসের প্রয়োজন।” সেই সঙ্গে তার খোঁচা জহর সরকার এমন মন্তব্য করলেও আদতে তিনি ইতিহাসের ডাস্টবিনে অবস্থান করছেন।

