জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৫ ফেব্রুয়ারি: শুক্রবার রাতে জেলা সভাপতিদের হাতে এবং সংবাদমাধ্যমে তৃণমূলের পৌরসভার প্রার্থীদের নামের সংশোধিত তালিকা পৌঁছানোর পর মেদিনীপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে দুই নম্বর ও চৌদ্দ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী বদল নিয়ে গন্ডগোল শুরু হয়েছে। দুই নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর নির্মাল্য চক্রবর্তীর স্ত্রী সোনালী চক্রবর্তী এবং চৌদ্দ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বেশ্বর নায়েকের স্ত্রী অর্পিতা রায় নায়কের নাম প্রথম তালিকায় ঘোষণা করেও পরবর্তীতে বাতিল করায় তাদের অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় ক্ষোভের বিস্ফোরণের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েও শনিবার রীতিমতো ওই ওয়ার্ডের বরিশাল কলোনি ও গিরিজা এলাকায় দেওয়াল লিখে চলেছেন দুই নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সোনালী চক্রবর্তী। তাকে নিজেকেও দেওয়াল লিখতে দেখা গেছে। দ্বিতীয় তালিকায় মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষিত হওয়ার পরেও কেন সোনালীর হয়ে প্রচার করছেন? উত্তরে তার অনুগামীরা বলেন, ওয়েবসাইটে সোনালীর নাম রয়েছে। ওটাই আসল তালিকা। কলম দিয়ে কেটে যে নাম বসানো হয়েছে তা ঠিক নয়।

এই অবস্থায় সমস্যায় পড়েছেন দ্বিতীয় তালিকায় ঘোষিত তৃণমূল প্রার্থী মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্য নেতৃত্ব শরণাপন্ন হয়েছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্রে নির্মাল্য চক্রবর্তীর প্রার্থী হওয়া এক প্রকার ঠিকই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু চরম গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারণে পিকের পরামর্শে জুন মালিয়াকে কলকাতা থেকে উড়িয়ে আনতে হয়েছিল। অভিষেক ঘনিষ্ঠ নির্মাল্যবাবু তখন হতাশ হলেও পিকের টিমের পক্ষ থেকে তাকে বা তার স্ত্রীকে পৌর নির্বাচনে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্মাল্যবাবুর অনুগামীরা বলছেন, দুই নম্বর ওয়ার্ডে সোনালী বৌদি লড়াই করবেনই। দল প্রতীক না দিলে অন্য প্রতীকে লড়বেন। পিছু হটার প্রশ্ন নেই।
একইভাবে চৌদ্দ নম্বর ওয়ার্ড সহ আরো কয়েকটি ওয়ার্ডে তৃণমূলকে এই অবস্থায় পড়তে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

