আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৩ জুন: অনলাইন জুয়া ও জুয়ার আড্ডা বসানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো রামপুরহাট শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি আহাসান হাবিবকে। গ্রেফতার করা হয় তার দুই ঘনিষ্ঠকেও। তাদের নাম রাজীব দাস ও সাদ্দাম শেখ।
শুক্রবার গভীর রাতে তাদের গ্রেফতার করে রামপুরহাট থানার পুলিশ। এছাড়াও বাবর আলী নামে আরও এক অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। শনিবার তাদের রামপুরহাট মহকুমা বিশেষ আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইপিএল সহ নানা খেলায় রামপুরহাট শহর ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামে এই অনলাইন জুয়া বা বেটিং- এর জাল ছড়িয়ে আছে। অনলাইনে মোবাইলের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলা হয়। খোদ তৃণমূলের পার্টি অফিসের নিচে একটি ঘরে জুয়া চক্র চালাত বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। জুয়ার নেশায় সর্বস্বান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু আহাসান হাবিব রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে। শুক্রবার রাতে রামপুরহাট শহরের সানঘাটা পাড়ার রাজীব দাসের বাড়ি থেকে আহাসান হাবিব, সাদসাম শেখ ও রাজীব মন্ডল’কে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করে নাম উঠে আসে বাবর আলীর। তারপর আজ সকালে অভিযুক্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৮ (৪) (প্রতারণা করে সম্পত্তি বা অর্থ আদায়) এবং ৩১৬ (২) মতো গুরুতর ধারাগুলি সাধারণত অজামিন অযোগ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬১ (২) অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, যুক্ত থাকলে মামলাটি আরও গুরুতর হয়ে যায়। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ গাম্বলিং এন্ড প্রাইজ কম্পিটিশনস অ্যাক্ট- এর ৩ ও ৪ ধারা, জুয়ার আড্ডা পরিচালনা করা বা সেখানে উপস্থিত থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। হাবিবের বিরুদ্ধে শুধু অন লাইন জুয়া নয়, সরকারি জমি দখল করে বহুতল নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুরসভাকে লিখিত অভিযোগ জানালেও দলীয় কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেনেও চোখ বন্ধ করে বসেছিলেন।
শনিবার ধৃতদের রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে পুলিশ ৭ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়। আদালত ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রামপুরহাট থানার পুলিশ। অনলাইন জুয়া চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, আর্থিক লেনদেন কীভাবে চলত এবং এর পেছনে বড় কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

