Jaishankar, Western countries, ইউরোপীয় অস্ত্রে ভারতে হামলা! তেল ও অস্ত্র নিয়ে পশ্চিমের দেশগুলির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় আক্রমণ জয়শঙ্করের

আমাদের ভারত, ১২ জুন: ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে ইউরোপীয় দেশ গুলির দ্বিচারিতার কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানে এক সাংবাদিক ভারতের রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল এবং রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে অতি উৎসাহী বলে অভিযুক্ত করতেই পাল্টা আক্রমণ শানান জয়শঙ্কর। বুঝিয়ে দেন অস্ত্র ও তেলের বিষয়ে পশ্চিমী দুনিয়া দ্বিচারিতা করেছে ভারতের সঙ্গে।

ইংল্যান্ডে একটি আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন জয়শঙ্কর। সেখানে ইউরোপের নৈতিক অস্পষ্টতা তুলে ধরে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। ভারতকে আক্রমণকারী দেশগুলির কাছে ইউরোপের অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে বিদেশ মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত কখনো ইউরোপের ক্ষতি করার মতো কোনো কাজ করেনি।

বিদেশ মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় অস্ত্র দিয়ে কোনো ইউরোপ দেশে হামলা চালানো হয়নি। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে ইউরোপের অস্ত্র ব্যবহার হয়নি সেকথা আমি বলতে পারছি না।

নিজের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ এমন সব দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এটা শুধু এখন নয়, বহু বছর ধরেই চলছে। কিন্তু আমরা ভারতীয়রা কখনো এমন কিছু করিনি যা ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে। আমার মনে হয় এটা যুক্তিসংগত নয়।

রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করে বিদেশ মন্ত্রী জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে খোদ আমেরিকা ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুরোধ করেছিল।

তাঁর কথায়, দাম এবং বাজার কতটা পাওয়া যাচ্ছে তার উপর ভিত্তি করেই ভারত তেল কেনে। জয়শঙ্কর মনে করিয়ে দেন, সেই সময় বাজারে মজুদ তেলের একটা বড় অংশ আসছিল রাশিয়া থেকে, কারণ ইউরোপীয় দেশগুলি মূলত পশ্চিম এশিয়ার তেল কিনছিল। প্রথাগতভাবে আমাদের প্রধান সরবরাহকারী ছিল ওরা। জয়শঙ্কর আরও যোগ করেন, পরিস্থিতি আমাদের এই দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

এরপরই আমেরিকার নীতিগত স্ববিরোধিতাকে কাঠগোড়ায় তোলেন বিদেশ মন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, মার্কিন প্রশাসন প্রথমে রুশ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর কর চাপিয়েছিল, কিন্তু পরে সেই নিষেধাজ্ঞা আবার তুলে নেয়।

আমেরিকাকে বিঁধে জয় শঙ্করের মন্তব্য, এখন যদি পরিস্থিতি দেখেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আমাদের ওপর কর চাপানোর পর আমেরিকা আবার এই নিষেধাজ্ঞা তুলেও নিয়েছে। তাই এর মধ্যে কোনো মহান আদর্শ লুকিয়ে রয়েছে এমন ভান করার প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয় না এই বিষয়টিকে অন্য রূপ দেওয়ার কোনো যুক্তি আছে।

ইউক্রেন সংঘাত মেটাতে ভারত বরাবর আলোচনা ও কূটনীতির পথ অনুসরণের পক্ষেই সওয়াল করেছে। একই সঙ্গে রোজ তেল আমদানির বিষয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে ভারত বরাবর জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ, নাগরিকদের কল্যাণ এবং আভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বিশ্ব বাজার থেকে তেল কেনা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *