সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১২ জুন: উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বড়সড় খাদ্যশস্য পাচার চক্রের হদিশ মিলল। রাজ্য খাদ্য দপ্তরের তৎপরতায় এফসিআই (ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া) গোডাউন থেকে বেরিয়ে যাওয়া ৯টি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ গম উদ্ধার করা হয়েছে। মোট ৯৬০ কুইন্টাল গম বোঝাই ওই ট্রাকগুলিকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সরকারি খাদ্যশস্য অসদ উপায়ে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর মধ্যমগ্রামের এফসিআই গোডাউন থেকে বের হওয়া একাধিক ট্রাকের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় যে, ট্রাকগুলিতে বোঝাই করা গমের গন্তব্য এবং কাগজপত্রের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এরপরই ৯টি ট্রাক আটক করে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়। আটক ট্রাকগুলিতে মোট ৯৬০ কুইন্টাল গম ছিল বলে খাদ্য দপ্তর নিশ্চিত করেছে। এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কোনও সংঘবদ্ধ পাচারচক্র এর নেপথ্যে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “সরকারি খাদ্যশস্য নিয়ে কোনওরকম দুর্নীতি বা পাচার বরদাস্ত করা হবে না। খাদ্য দপ্তর নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া আরও জানান, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য যাতে কোনওভাবেই কালোবাজারি বা পাচারের মাধ্যমে অন্যত্র চলে না যায়, সেদিকে সরকার বিশেষভাবে নজর রাখছে। তদন্তে যদি আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের যোগসূত্র পাওয়া যায়, তাহলে আরও বৃহত্তর তদন্তের পথ খুলে যেতে পারে।
ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে তৎপরতা বেড়েছে। আটক ট্রাকগুলির চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে একটি বড় চক্র জড়িত থাকতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের।

