সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১২ জুন: ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল শুক্রবার। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত দীনেশ ত্রিবেদী পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাঁর এই সফরকে ঘিরে পেট্রাপোল বন্দরে ছিল বিশেষ প্রস্তুতি এবং উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন।
শুক্রবার সকালে পেট্রাপোল বন্দরে পৌঁছলে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে স্বাগত জানান বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক স্বপন মজুমদার এবং ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার পেট্রাপোল বন্দরের ম্যানেজার কমলেশ সাইনি। ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং ভারত- বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ভারতীয় হাই- কমিশনারের বাংলাদেশে যোগদানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
এই প্রসঙ্গে বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং আত্মিক বন্ধনের উপর প্রতিষ্ঠিত। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক অটুট রয়েছে। পেট্রাপোল- বেনাপোল সীমান্ত এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম স্থলবন্দর। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য পরিচালিত হয়। আমরা আশা করছি, নতুন হাই কমিশনারের নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সু- সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নতুন হাই কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক আদান- প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পেট্রাপোল- বেনাপোল করিডোর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন এই সীমান্ত দিয়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই- কমিশনারের এই সফরকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মত ব্যবসায়ী মহলের একাংশের।

