সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৩ মে: গতকাল রাতে জেলার পখন্নার এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতি ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায়। ভাঙ্গচুর চালানো হয় একটি চারচাকা গাড়িতেও। এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের চান্দাই গ্রামে। গতকাল গভীর রাতে এই হামলার খবর পেয়ে আজ সকালেই আক্রান্ত পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে হাজির হয়ে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। বিজেপি নেতা- কর্মীরা অপরাধীদের দ্রুত ধরে আইনের কড়া শাস্তির দাবি করেন।
বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের পখন্না গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে রয়েছে। সেখানকারই প্রধান মহসিনা বেগম। স্থানীয়দের বক্তব্য, শুক্রবার রাতে তার চান্দাই গ্রামের বাড়িতে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতি। বাড়ির কাঁচের সমস্ত দরজা ও জানালা ভেঙ্গে ফেলা হয়। বাড়ির দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতিরা। আতঙ্কিত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান স্থানীয় বিজেপি নেতাকে ফোন করলে ওই বিজেপি নেতার উদ্যোগেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়।পুলিশ গ্রামে পৌঁছানোর আগেই চম্পট দেয়
দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার পরদিন সকালেই আক্রান্ত পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে পৌঁছে ওই পঞ্চায়েত প্রধানকে আশ্বস্ত করেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
মহসিনা বেগম বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই তার স্বামী বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমন মল্লিক ওরফে তাপস মল্লিককে মারতে চড়াও হয়েছিল একদল দুষ্কৃতি।এদিন ঘটনার সময় তিনি বিজেপি নেতা বাপি গড়াইকে ফোন করা মাত্রই তিনি পুলিশ পাঠান। শনিবার সকালে এসে তিনি বলে গেছেন যে, দুষ্কৃতিরা যেই হোক, এমনকি তার দলের কেউ জড়িত থাকলেও তিনি কড়া ব্যবস্থা নেবেন। থানাতেও জানানো হয়েছে।
তবে আক্রান্ত পঞ্চায়েত প্রধান ঘটনার জন্য বিজেপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তুললেও তা মানতে নারাজ পদ্ম শিবির। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বড়জোড়া থানার পুলিশ। বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ধনঞ্জয় গড়াই পরিষ্কার বলছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কেউ জড়িত নয়। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা বলে অনুমান।

