সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৩ মে: জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশার অভিযোগ পেতেই মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসককে হাসপাতাল পরিদর্শন করে যথাযথ পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন।সেই মতো গতকাল বিষ্ণুপুর হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর আজ স্থানীয় বিধায়ক নিলাদ্রী দানাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শন করেন জেলা শাসক অনীশ দাশগুপ্ত। হাসপাতাল সুপার, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে হাসপাতালের মানোন্নয়ন ও চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়নে কড়া পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন বাঁকুড়াবাসী।
তাদের অভিযোগ, জেলার চিকিৎসা পরিষেবা বেহাল হয়ে পড়েছে। এই অচলাবস্থা ও উদাসীনতার পরিবর্তন ঘটাতে কড়া পদক্ষেপ করা দরকার। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসা কমলপুরের অনাদি সরেন ও তপন ব্যানার্জি এবং আঁচুড়ি থেকে বৈদ্যনাথ আঠা, বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দেখাতে আসা পখন্নার পতিত পাবন ভট্টাচার্য ও আশুড়িয়ার মলয় দাস বলেন যে, গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। গত শুক্রবার বিষ্ণুপুরে সেটা দেখা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের বেহাল ছবি তুলে ধরেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক। সেই অভিযোগ শুনে বাঁকুড়ার জেলা শাসককে দ্রুত হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই নির্দেশের পর শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় বিধায়ক ও স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান বাঁকুড়ার জেলা শাসক। হাসপাতালের চুড়ান্ত অব্যবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কর্তারা। হাসপাতালে যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপ, পরিকাঠামোর চুড়ান্ত ঘাটতি ও ব্লাড ব্যঙ্কে রক্তের হাহাকার ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বিষ্ণুপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমানাবর্তী এলাকার মানুষকে প্রতিদিন চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে চুড়ান্ত নাকাল হতে হচ্ছিল। তাই জেলা শাসক অনিশ দাশগুপ্ত ও বিষ্ণুপুরের বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায় হাসপাতাল পরিদর্শন করায় খুশি জেলার মানুষ।
তারা চান জেলার সব হাসপাতালে ঝটিকা পরিদর্শন হোক।
অন্যদিকে ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দেখাতে আসা তাপসী বাউরি ও মধুমিতা বাউরি জানান যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই হাসপাতাল গুলি গড়ে তোলা হয়েছে।সঠিক পরিকাঠামো, উপযুক্ত চিকিৎসক নেই এমনকি নজরদারিও নেই। এজন্য ভুগতে হচ্ছে। তাছাড়া বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কাছেই করা হয়েছে এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এটা শালতোড়া বা ঝাঁটিপাহাড়িতে হওয়ার প্রয়োজন ছিল। বাঁকুড়া থেকে বিষ্ণুপুরের দূরত্ব ৩০ কিমি। তাছাড়া সেখানে মহকুমা স্তরের হাসপাতাল রয়েছে। তা সত্বেও সেখানে এবং মাঝে ওন্দায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করা হয়েছে।
বিষ্ণুপুর হাসপাতালের অবস্থা তো শুক্রবার সামনে এসে গেছে। জেলা শাসক ও বিধায়ক প্রতিটি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় তাদের চোখে পড়ে হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা দীর্ঘদিনের আবর্জনার স্তুপ। হাসপাতালের সর্বত্র বৈদ্যুতিক পাখা না থাকার ফলে প্রবল গরমে রোগীদের বেহাল অবস্থা। ব্ল্যাড ব্যঙ্কে রক্ত মজুত না থাকায় রোগী ও তাদের পরিজনদের হাহাকারও দেখেন তারা।হাসপাতাল সাফাই- এর কাজে যুক্ত ঠিকা সংস্থার কর্মীদের নিয়োগে বেনিয়ম ও চিকিৎসক সহ কর্মীদের দুর্ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ তাদের কানে আসে।

