আবারও প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল, পাতুলিয়ায় দলীয় কর্মীকে মারধরের অভিযোগ এক নেতার বিরুদ্ধে

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২০ এপ্রিল: তৃণমূল কর্মীর ওপর তৃণমূল নেতা ও তার দলবলের আক্রমন করার ঘটনায় ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূলের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের পাতুলিয়া এলাকায় তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠলো ওই এলাকার তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।

তৃণমূল কর্মী মনোজ মুহুরীর অভিযোগ, ১৭ এপ্রিল পাতুলিয়া বাজারের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সোমনাথ বলে এক ব্যক্তির সাথে কথা বলছিলেন। এরপর তার সাথে সোমনাথের হাতাহাতি শুরু হয়, সেই সময় সোমনাথ ফোন করে পাতুলিয়া আবাসনের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি আশিষ চক্রবর্তীকে ডাকে। এরপর পাতুলিয়া আবাসনের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি আশিস চক্রবর্তি ও তার দলবল আসে এবং তৃণমূল নেতা আশীষ চক্রবর্তির নেতৃত্বে হামলা চালায়। তাকে রাস্তায় ফেলে ব্যাপক মারধর করা হয় ও রাস্তায় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যায় আশীস বাবু ও তার দলবল।

সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে আহত তৃণমূল কর্মী মনোজ মহুরী খড়দহের শ্রী বলরাম শিবমন্দির রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

আক্রান্ত মনোজ মুহুরীর অভিযোগ, “আমি ২০০৮ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস করি। কিন্তু যারা আমায় মেরেছে তারা তৃণমূলে নতুন এসেছে। আমি সোমনাথ বলে একজনের সাথে কথা বলছিলাম তখন আমাদের মধ্যে গণ্ডগোল হয়। আর আশীসকে ডাকলে সে তার দলবল নিয়ে আমাকে ব্যাপক মারধর করে। এই আশীস আর ওর লোকেরা এরকম ভাবেই মাস্তানি করে বেড়াচ্ছে সারা পাতুলিয়া জুড়ে।”

যদিও অভিযুক্ত আশিস চক্রবর্তির বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তৃণমূল নেতা আশিস চক্রবর্তি ঘটনার সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে দাবি করেন যে সেই সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এদিন আশীসবাবু পাল্টা অভিযোগ করেন যে, “মনোজ মুহুরী এলাকায় অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত, সে তৃণমূল করেন না। সব সময় নেশা করে মানুষের সাথে গণ্ডগোল করে। আর সেদিন তিনি মদপ্য অবস্থায় ছিলেন, এলাকায় সোমনাথ বলে এক যুবকের সাথে ঝামেলা হয়েছে, নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এর সঙ্গে আমি কোনো ভাবেই যুক্ত নই। আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে।”

তবে তার দেওয়া সিসিটিভি ফুটেজে মারধরের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে তৃণমূল নেতা আশিস চক্রবর্তীকে দেখা না গেলেও পুরো ঘটনাই তদন্ত করে দেখছে রহড়া থানার পুলিশ। তবে এই ঘটনার সাথে দলের কোনো যোগ নেই, আইন আইনের পথে চলবে, এমটাই জানিয়েছে খড়দহ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শুকুর আলী পুরোকাইত।

এই ঘটনাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আহ্বায়ক জয় সাহা। তিনি এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন, “এই ঘটনা শাসকদলের এলাকা দখলের লড়াই। সারা রাজ্যে এই একই ছবি দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতা দখলের জন্য তৃণমূলের নেতা কর্মীরা একে অপরের সাথে মারপিট করে চলেছে। তৃণমূলের যা পরিস্থিতি তাতে বিরোধীদের বেশি কিছু করার নেই, ওরা নিজেরা নিজেরাই মারপিট করে শেষ হয়ে যাবে।”

যদিও এই ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *