আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৩ ফেব্রুয়ারি: ‘ছিল হাটতলা। এখন বাঁশতলা’। পুরসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শাসক দলের পতাকা ঝোলানকে এভাবেই সমাজ মাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন সমাজসেবী তথা বাম নেতা পার্থ প্রতিম গুহ। কংগ্রেস-বিজেপিও শাসকের বাঁশ কালচারের সমালোচনা করেছেন।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সারা রাজ্যের সঙ্গে রামপুরহাটেও মোটা মোটা বাঁশ হাতে তৃণমূলের উন্নয়ন বাহিনীর তাণ্ডব দেখেছিল শহরবাসী। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অর্থাৎ ৯ দিন শহর ছিল অবরুদ্ধ। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে মহকুমা শাসক কিংবা ব্লকে পৌঁছতে পারেননি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাঁশ হাতে শহরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে উন্নয়ন বাহিনী। শহরবাসীর সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা ফের ফিরে এল রামপুরহাট পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে।
৫ নম্বর ওয়ার্ড গত ২০ বছর ধরে বিজেপির দখলে রয়েছে। ২০০০ সালে বিজেপি প্রার্থী শুভাশিস চৌধুরী বর্তমানে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২ ভোটে পরাজিত করেন। ২০০৫ সালে ফের তাকেই ২৯ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১০ সালে ওয়ার্ডটি মহিলা হয়ে যাওয়ায় শুভাশিসবাবুর স্ত্রী সুপর্ণা চৌধুরী তৃণমূল প্রার্থীকে ১৭৮ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে শুভাশিস চৌধুরী ২৮৩ ভোটে বিজেপিকে পরাজিত করেন। প্রতি বছর জয়ের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় এবার ওই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মীনাক্ষী ভকতকে সম্ভব্য প্রার্থী হিসাবে সামনে আনা হয়। এরপরেই ওই ওয়ার্ড মোটা মোটা বাঁশ দিয়ে দলীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয়। অনুমতি না নিয়েই দোকানের সামনে মোটা মোটা বাঁশ দিয়ে পতাকা ঝোলানোয় ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। কিন্তু শাসক দলের ভয়ে মুখ খুলতে চাইছে না কেউ।

শুভাশিস চৌধুরী বলেন, “আমরা জানি মুসলিম ভাইদের মহরমের সময় বড় বড় পতাকা ঝোলানোর জন্য ওই বাঁশ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তৃণমূল মানুষকে সন্ত্রস্ত এবং আতঙ্কিত করতেই ওই বাঁশ ব্যবহার করেছে। মানুষই ওদের বাঁশ ফিরিয়ে দেবে”।
পার্থ প্রতিম গুহ বলেন, “হাটতলায় এমনিতেই রাস্তার পরিসর ছোট। তার উপর মোটা মোটা বাঁশ দিয়ে পতাকা ঝোলানোয় রাস্তা আরও সংকীর্ণ হয়েছে। ঠিক মহরমের আগে তাজিয়া সাজাতে আমরা যেমন বাঁশ দেখে থাকি। কিন্তু মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। তবে এমন সংস্কৃতি রামপুরহাটের হাটতলার মানুষ কোনোদিন দেখেনি। গোটা হাটতলা বাঁশ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে”।
মীনাক্ষী ভকতের স্বামী তৃণমূলের রামপুরহাট শহর সভাপতি সৌমেন ভকত বলেন, “পতাকার মাপ অনুযায়ী বাঁশ বাঁধা হয়েছে। আতঙ্কের কোনো ব্যাপার নেই। বিরোধীরা মানুষের পাক্ষে থাকুক। উন্নয়নে মন দিক”।

