বারাসতে তৃণমূল -বিজেপি সংঘর্ষ, বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলরের মাথা ফাটল, আহত ৮ তৃণমূল নেতা- কর্মী

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ২ এপ্রিল:
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তৃণমূল- বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বারাসত। তৃণমূলের দেওয়াল লিখনের সামনে বিজেপির ব্যানার রাখা নিয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদ ঘিরে বাক- বিতন্ডা থেকে সংঘর্ষের উৎপত্তি। বারাসাতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৭ কাঠা এলাকায় হওয়া সংঘর্ষে তৃণমূলের অন্তত আট জন আহত হয় যার মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর। এছাড়াও মাথা ফেটেছে, সাত নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ও দাপুটে তৃণমূল নেতা অরুন ভৌমিকের।

তৃণমূলের অভিযোগ, পোস্টার -ব্যানার বিতর্ক মেটাতে গিয়ে বিজেপি দুষ্কৃতীদের হাতে প্রহৃত হন অরুন ভৌমিক। অরুন ভৌমিক ও গুরুতর আহত রহমত আলি, মুসারফ গাজী সহ আট তৃণমূল নেতা সমর্থককে নিয়ে আসা হয় বারাসতের যশোর রোডের পাশে বেসরকারি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে।

বিজেপি ঘটনাটিকে প্রাথমিক ভাবে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ বললেও তৃণমূলের অভিযোগ, সুপরিকল্পিত ভাবে দু’দিক থেকে ঘিরে রেখে রড ও বাঁশ নিয়ে হামলা চালায় বিজেপি কর্মী সমর্থক ও বিজেপির ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুষ্কৃতীরা।

বারাসাতের মালদ্বীপ লাগোয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত এগারোটা নাগাদ বিবাদ শুরু হয়, যেখানে বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী চিরঞ্জিতের সমর্থনে দেওয়াল লিখনের ঠিক পাশেই বিজেপি প্রার্থী শংকর চ্যাটার্জির সমর্থনে একটি ব্যানার লাগায় বিজেপি সমর্থকরা। তৃণমূলের স্থানীয় কর্মী সমর্থকরা বিজেপির ব্যানার নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন। তৃণমূলের বক্তব্য ছিল, তৃণমূলের দেওয়াল লিখন আংশিক ঢেকে যাচ্ছে বিজেপির ব্যানারে। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। ঘটনাস্থলে ছুটে যান অরুন ভৌমিক। তিনিও কিছুটা দূরে সরিয়ে নিতে বলেন বিজেপির ব্যানারটিকে। বিজেপির আপত্তি থাকায় দু’দলের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়। আপাত সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল কর্মীরা ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয় বিজেপি কর্মীদের।

সূত্রে প্রকাশ, বিজেপি সমর্থকদের একজনকে চড় থাপ্পড় মারা হয়। এতেই আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে। এরপর বিভিন্ন দিক থেকে জড়ো হয় বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা প্রচুর সংখ্যায় এসে দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপরে। আরো অভিযোগ, রড-বাঁশ নিয়ে একতরফা আক্রমণ চালায় বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সামনেই হামলা চললেও পুলিশ ছিল ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকায়।

তৃণমূল শহর কংগ্রেসের সভাপতি অশনি মুখোপাধ্যায় রাতেই বেসরকারি হাসপাতালে আসেন অরুন ভৌমিক ও আহত কর্মীদের দেখতে। তিনি অভিযোগ করেছেন, শতাধিক বিজেপি কর্মী দু’দিক থেকে মুষ্টিমেয় তৃণমূলকর্মীকে ঘিরে ধরে হামলা চালিয়েছে। অশনি মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ঘটনা খারাপ দিকে মোড় নিচ্ছে বুঝে বারাসাত থানার পুলিশকে জানানো সত্বেও পুলিশের একটি গাড়িতে সামান্য সংখ্যক পুলিশ কর্মী ঘটনাস্থলে হাজির হয় এবং পুলিশের সামনে বিজেপি মারধর করলেও পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়। তৃণমূল নেতৃত্ব আরো জানিয়েছে, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *