Boat race, Kanmari, মনসা পুজোর বিসর্জনে কানমারীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, মেতে উঠল এলাকার মানুষ

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৩ সেপ্টেম্বর:
প্রতিবছরের মতো এ বছরও শ্রীশ্রী মনসা পুজোর বিসর্জন উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হল কানমারীতে। ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং কানমারী মৎস্য বাজার কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের পরিচালন সমিতির অন্যতম সদস্য পূজ্যপাদ স্বামী দিব্যানন্দজী মহারাজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বামী বিমুক্তানন্দজী মহারাজ- সহ সংঘের বহু বিশিষ্ট সন্ন্যাসী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট স্থান থেকে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। নদীর বুকে একের পর এক নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারা। কানমারী বাজার সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিবছর শ্রীশ্রী মনসা পুজোর আয়োজন করা হয়। এই পুজো ও মেলাকে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই মেলা প্রায় ৭০ বছর অতিক্রম করেছে। সময়ের সঙ্গে নানা পরিবর্তন এলেও মনসা পুজো ও মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের আবেগ এখনও অটুট। এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারত সেবাশ্রম সংঘের কানমারী গ্রামীণ সেবাকেন্দ্রও। এলাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘের পক্ষ থেকে মেলার পাশে থেকে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে আসছে।নৌকা বাইচকে ঘিরে শুধু প্রতিযোগীদের মধ্যেই নয়, দর্শকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। স্থানীয় সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মের কাছেও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সামগ্রিক সহযোগিতা করে আসছেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের পরম ভক্ত প্রবাসী বাঙালি চিকিৎসক ডাঃ শম্ভুনাথ চৌধুরী। তাঁর পিতা-মাতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে তিনি এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত থেকে সহযোগিতা করে আসছেন।

আয়োজকদের বক্তব্য, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার পাশাপাশি এলাকার পুরনো সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও লোকজ বিনোদনের ধারাকেও বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই প্রতি বছর মনসা পুজোর বিসর্জন উপলক্ষে এই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *