আমাদের ভারত, দার্জিলিং, ২৭ জুলাই: গরম পড়লেই দেশ বিদেশের পর্যটকরা ভিড় জমান শৈলশহর দার্জিলিং সহ কালিম্পংয়ে। কিন্তু করোনার ধাক্কায় এখন এসব অতীত। গরম হোক কিংবা পুজো বা শীতকাল পর্যটকের দেখা মেলেনি। কারণ করোনার থাবায় লকডাউন জারি করে সরকার। এরপর কিছুটা স্বাভাবিক হলে অল্প সংখ্যক পর্যটক পাহাড়মুখী হলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসায় আবার সব বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যজুড়ে কড়া বিধি নিষেধ চালু হয়। তাই গতবছর করোনা কাল থেকেই শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি হয়ে চলেছে পাহাড়ের হোটেলগুলোতে। তারই কোপ পড়েছে কর্মীদের ওপর।
এবিষয়ে দার্জিলিং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজয় খান্না জানালেন, এশহরে ৩৫০ হোটেল রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু গতবছর থেকে সব উধাও। এখন এই টাকার ২০% লেনদেন হচ্ছে। অর্থাৎ আমাদের এখন মাথায় বাজ পড়ার মত অবস্থা। না হোটেল চালু রাখা যাচ্ছে, না বন্ধ করতে পারছি। আর কেউ হোটেল মালিকদের খবর নেয় না। তারা কেমন আছে বা তাদের কর্মীরা কেমন আছে কেউ জানতে চায় না। এদিকে সরকার যা নিয়ম করেছে তা মেনে কয়েকজন পুজোর সময় কিংবা শীতকালে পাহাড়মুখী হবে তা বলা কঠিন। তাই বাধ্য হয়ে কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে। আর যারা স্থায়ী কর্মী রয়েছে তাদের বেতন কেউ ৩০% কেউ ৫০% কমিয়ে দিয়েছে। এই ক্ষতি পূরণ করা খুব কঠিন ব্যাপার। যদিও এখন হাতে গোনা পর্যটক পাহাড়ে এসেছে।
অন্যদিকে পাশের জেলা কালিম্পং সেখানেও একই অবস্থা। পর্যটক না থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হোটেল ব্যাবসায়ীরা। এপ্রসঙ্গে হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধান্ত সুদ জানালেন, আমাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৪৩। আর সব মিলিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৩৫কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু করোনার থাবায় এখন আর এত টাকার লেনদেন নেই। এখন তো ৮০% ক্ষতি আমাদের। যা লাভ হয় তা দিয়ে কিছুই করা যায় না। তাও অবশ্য এই মুহূর্তে কিছু পর্যটক আসায় আমদানী হচ্ছে। তবে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা কঠিন। একটাই আশা ছিল পুজার সময় পর্যটক এলে। কিন্তু করোনার তৃতীয় ঢেউ আর সরকারের এত নিয়মের বেড়াজাল পেড়িয়ে কয়জন আসবে তা বলা মুশকিল। তাই আমরা এখন অথৈ জলে পড়ে রয়েছি।

