আমাদের ভারত, দার্জিলিং, ২৭ জুলাই: গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ২৭ জুলাই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হয় পাহাড়জুড়ে। এ বছরও সামান্য ভাবে পাহাড় জুড়ে পালিত হল শহিদ দিবস। এদিন কার্শিয়াংয়ের দূরবীন দাঁড়ার শহিদ বেদিতে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কার্শিয়াং শহিদ দিবস উদযাপন কমিটি। শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দুই সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি অনিত থাপা। এছাড়াও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোর্চার নেতা কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, ১৮৮৬ সালে তৎকালীন জিএনএলএফ- এর সম্রাট সুভাষ ঘিসিংয়ের আমলে পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড়জুড়ে আন্দোলন শুরু করে জিএনএলএফ। জানা গেছে, সেই সময় আন্দোলন চলাকালীন প্রয়াত হয় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী। তারপর থেকেই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে জিএনএলএফ। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে পাহাড়ের রাশ সুভাষ ঘিসিংয়ের হাত থেকে বিমল গুরুংয়ের হাতে যাওয়ার পর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তরফে দিনটিকে উদযাপন করা হয় পাহাড় জুড়ে।
জানা গেছে এ বছর ৩৫ তম শহিদ দিবস পালিত হচ্ছে পাহাড়ে। তবে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যারাই পৃথক রাজ্যের আন্দোলনে শহিদ হয়েছে তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এ বছর এই শহিদ দিবস পালন করা হচ্ছে। তবে ২০১৭ সাল থেকে মোর্চা দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় আলাদা করে এই দিনটিকে প্রত্যেক গোষ্ঠী পালন করছে।
অন্যদিকে দার্জিলিঙে সুভাষ ঘিসিংয়ের দল জিএনএলএফ – এর তরফে দিনটিকে উদযাপন করা হয়। এদিন দার্জিলিং টাউন কমিটি ও ব্রাঞ্চ কমিটির নেতারা চ্যানেলের দলীয় কার্যালয়ে শহিদ বেদীতে খাদা দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিন জিএনএলএফ নেতা কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং ব্রাঞ্চ কমিটির সভাপতি অজয় এডওয়ার্ড।
একইভাবে কালিম্পংয়ে দিনটিকে উদযাপন করা হয়। কালিম্পংয়ের ১১ মাইলয়ের শহিদ বেদীতে খাদা অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন কালিম্পংয়ে বিধায়ক রুদেন সাদা লেপচা। একইসাথে বিমল গুরুং পন্থী মোর্চার তরফেও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা অর্পণ করতে ১১ মাইলের শহিদ বেদীতে শহিদ দিবস পালনের আয়োজন করা হয়। এদিন শহিদ বেদীতে খাদা দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। এছাড়াও মোর্চার অন্যান্য নেতা কর্মীরা একে একে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

