জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৫ জুন: মুখ থুবড়ে গ্রামীন এলাকায় আর্থ সামজিক উন্নয়নের প্রকল্প ১০০ দিনের কাজ। আর তার প্রতিবাদে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এক’শ দিনের কাজ চালুর দাবিতে ও বকেয়ার দবিতে এবার সরাসরি রাস্তায় নামল তৃণমূল। রবিবার বুদবুদ, চাকতেঁতুল ও মানকরে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল করল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মে পুরুলিয়া সফরে যাওয়ার পথে দুর্গাপুরে রাত্রিবাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের এক’শ দিনের কাজপর বকেয়া টাকা ও আবাস যোজনার টার্গেটের দাবীতে সরব হয়ে কড়া সমালেচনা করেন কেন্দ্র সরকারের। ওই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন,
‘১০০ দিনের ৬ হাজার কোটি টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। ৫ মাস ধরে বকেয়া। এটা কেন্দ্র দয়া করছে না। আমাদের প্রাপ্য টাকা। শ্রমদিবস পর্যন্ত ঠিক করা হয়নি। আবাস যোজনার টার্গেট জানানো হয়নি। ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্র নোংরা রাজনীতি করছে। দ্রুত টাকা মেটালো কলকাতা থেকে দিল্লী সর্বত্রই আন্দোলন হবে।’ এমনকি কেন্দ্রের বঞ্চনার প্রতিবাদে বুথস্তরে আন্দোলনের নামার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমত রবিবার বুদবুদের মানকরে প্রতিবাদ মিছিল করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিন ঝুড়ি, কোদাল নিয়ে মিছিলে সামিল হয় সাধারন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। উপস্থিত ছিলেন, গলসি-১ নং ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি জাকির হোসেন, ব্লকের যুব নেতা তন্ময় ভান্ডারী। জানা গেছে, গত অর্থ বছরে এক’শ দিনের কাজে মানকর পঞ্চায়েতে শ্রমদিবস হয়েছে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৮৪৬ দিন। কাজ হয়েছে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৯৮ টাকার। একই সঙ্গে বুদবুদ বাজার ও চাকতেঁতুলে প্রতিবাদ মিছিল করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতে গত অর্থ বছরে একশ দিনের কাজে শ্রমদিবস হয়েছে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ১৭৬ দিন। কাজ হয়েছে ২ কোটি ৪৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪৮৮ টাকার। যার মধ্যে বকেয়া মজুরীর পরিমাণ প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকা। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও মজুরি না পাওয়ায় গরিব প্রান্তিক মানুষের মাথায় হাত পড়েছে বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে এক’শ দিনের কাজের বিকল্প নেই বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।
স্থানীয় তৃণমূল যুব নেতা তন্ময় ভান্ডারী জানান,
“গরিব কল্যাণ সম্মেলনের নামে গাল ভরা ফিরিস্তি দিচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এদিকে গত ৫-৬ মাস এক’শ দিনের কাজের টাকা বকেয়া। গরিব মানুষ কাজ পাচ্ছে না।”
উল্লেখ্য, আগামী ২০২৩ রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর ওই পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামীন আর্থ সামাজিক উন্নয়নে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ১০০ দিনের প্রকল্প, আবাস যোজনার গৃহ নির্মান, সড়ক যোজনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে জেলায় উন্নয়নের কাজ খতিয়ে দেখতে জেলা সফর শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার মানুষের মন জয় করতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমনের কার্যত হাতিয়ার করেছে এক’শ দিনের কাজকে।
তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা নেতা জাকির হেসেন বলেন, “গ্রামীন আর্থ সামাজিকের মূল আধার এক’শ দিনের কাজ। লকডাউনের পর গরিব মধ্যবিত্ত পরিবার সঙ্কটজনক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। জ্বালানি গ্যাস আকাশছোঁয়া। রেশনে গম বন্ধ করতে চলেছে কেন্দ্র। তার ওপর এক’শ দিনের কাজ করলে মানুষ বাঁচবে কিভাবে? নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় সাধারন গরিব মধ্যবিত্ত মানুষের রুজিতে আঘাত করে ক্ষোভ মেটাচ্ছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এটা মেনে নেবে না। আগামী পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ বিজেপিকে আবারও আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেবে।”

