নির্দল প্রার্থীরাই বড় চ্যালেঞ্জ, বাঁকুড়ায় প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে প্রচার তৃণমূলের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ১৪ ফেব্রুয়ারি: আসন্ন বাঁকুড়া পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নির্দল প্রার্থীরাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ১১ জন নির্দল প্রার্থী দলীয় টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। পুরসভার বিদায়ী উপ পৌর প্রধান দিলীপ আগরওয়াল, কাউন্সিলর অনন্যা চক্রবর্তীদের মত পোড় খাওয়া দলের দুর্দিনের নেতা-নেত্রীরা নির্দল হয়ে লড়াইয়ে নামায় এই ওয়ার্ডগুলিতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন দলীয় প্রার্থীরা। সে কারণে জেলার বিভিন্ন ব্লকের সংগঠনের পদাধিকারী নেতাদের নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করছে জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব। এই পুরসভার ২৪ ওয়ার্ডের জন্য ২৪ জন পর্যবেক্ষকদের দিয়ে কোমর বেঁধে ভোট পরিচালনায় নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এনিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি বিজেপি। বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, পৌর এলাকায় এত উন্নয়ন করেছেন যে, পুরসভার বিদায়ী বোর্ডের চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলর কেউই পুর নাগরিকদের কাছে ভোট চাইতে যেতে পারছেন না। তাই বহিরাগতদের নিয়ে এসে ভোট করাতে হচ্ছে।

জেলা তৃণমূল সূত্রের খবর, ১ নম্বর ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে শালতোড়ার ব্লক সভাপতি সন্তোষ মন্ডলকে। ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের নেতা তথা জেলা শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রথীন ব্যানার্জি পর্যবেক্ষক হয়েছেন।তেমনি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন তালডাংরার নেতা তারাশঙ্কর রায় ল। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গঙ্গাজলঘাঁটির তরুণ তুর্কি নেতা নিমাই মাজিকে। এই ভাবে ক্রমান্বয়ে ৫ থেকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের পর্যবেক্ষকরা হলেন সুব্রত মিশ্র, মলয় মুখার্জি, জন্মেজয় বাউরি, স্বপন মন্ডল, ইন্দ্রজিৎ কর্মকার। রয়েছেন বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী, প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মুও। ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে খাদ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডিকে। প্রত্যেক পর্যবেক্ষক তাদের দলীয় পুর প্রার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে প্রচারের রণকৌশল কী হবে তা নিয়ে আলোচনা করার পর প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পর্যবেক্ষক নিমাই মাজি এই ওয়ার্ডের প্রার্থী অমৃতা কুন্ডু’কে নিয়ে প্রচার শুরুর আগে এখানের শিবমন্দিরে মাঘি সংক্রান্তির পুজো দিলেন। তারপর বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করে দিলেন নিমাইবাবু। এখানে কোনো নির্দল প্রার্থী না থাকলেও সিপিএম এবং বিজেপি উভয় দলই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

যদিও নিমাই মাজি বলেন, বিজেপি বা সিপিএম কোনো বিরোধীই তাদের কাছে কোনো ফ্যাক্টরই নয়। কিন্তু শত্রুকে কখনও দুর্বল ভাবাও উচিত নয় বলে মনে করেন নিমাই মাজি। তাই শত্রুপক্ষকে ১ ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নন তিনি। তবে তার দলের প্রার্থী অমৃতা গরাই
কুন্ডু ভালো মার্জিনে জিতবেন সে ব্যাপারে তিনি দৃঢ় বিশ্বাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *