প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগণা, ৪ জুন: উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে দেনার দায়ে আত্মঘাতী হলেন একই পরিবারের তিনজন সদস্য। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোদপুর স্টেশন রোড সংলগ্ন বসাক বাগান এলাকায়। একই ঘর থেকে উদ্ধার হয় বাবা, মা ও ছেলের মৃতদেহ।

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার ফলে বেশ সমস্যা পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। মৃত ৫৮ বছর বয়সী সমীর গুহ একজন বস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন। বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ব্যবসায়ী সমীর কুমার গুহ। আর এই লকডাউন পরিস্থিতিতে ব্যবসা করতে গিয়ে প্রচুর দেনা হয়ে গেছিল সমীরবাবুর। বাজার থেকে প্রচুর মাল তুলেছিলেন কিন্তু লক ডাউনে সেগুলি বিক্রি করতে পারেননি ফলে ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছিল তাদের দেনার পরিমাণ। যার ফলে কয়েকদিন ধরে চুপচাপ থাকতেন সমীর বাবু। বেশ কয়েক দিন ধরে তাকে বাইরে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না বলে সূত্রের খবর। বেশ কিছু বছর ধরে বসাক বাগান এলাকায় ভাড়া থাকতেন সমীর গুহ। এলাকার বাসিন্দারা শুক্রবার সকালে সমীর গুহর ঘর থেকে গন্ধ বের হতে দেখে, তাদের ডাকাডাকি করতে থাকেন। কিন্তু ঘর থেকে কারোর কোনও সাড়া না পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় খড়দহ থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ এসে বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখতে পায় স্ত্রী ঝুমা গুহ (৪৮)ও ছেলে বাবাই গুহ’র (২৩) দেহ বিছানার ওপর পড়ে রেয়েছে। আর সমীরবাবুর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরে সোদপুরের বসাক বাগান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

দেহগুলি দেখে পুলিশে প্রাথমিক অনুমান সমীরবাবু প্রথমে বিষ দিয়ে নিজের স্ত্রী ও তাদের একমাত্র সন্তানকে হত্যা করেন ও পরে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ ওই ঘর থেকে তল্লাশি চালিয়ে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে। সেই চিঠিতে সমীর বাবু লিখেছেন, তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা দেনাদারদের যেন মিটিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মৃত সমীর বাবুর বন্ধুরা। তারা জানান “লক ডাউন চলার ফলে অর্থনৈতিক ভাবে খুব সমস্যায় পড়েছিলেন ব্যবসায়ী সমীর গুহ। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে ব্যবসা ঠিক করে করতে পারছিল না। আমরা বহুবার আর্থিক সাহায্য করেছি কিন্তু তাও ওদের আর্থিক সমস্যা মিটছিল না। ২০২০ সালের লকডাউন থেকেই ওদের আর্থিক অনটন শুরু হয় এবার সেটা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।” খড়দহ থানার পুলিশ মৃত
দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এই সমস্ত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়দা থানার পুলিশ।

