আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৪ আগস্ট: গাঁজা পাচারের বড়সড় ছক ভেস্তে দিল জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের এসওজি ও কোতোয়ালি থানা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ তিন কুইন্টাল ৪৩ কেজি। তিস্তা সেতু সংলগ্ন বিবেকান্দ পল্লী এলাকায় জাতীয় সড়ক থেকে গাঁজা বোঝাই পেট্রোল-ডিজেলের ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফাঁকা ট্যাঙ্কারে ভিতরে আলাদা করে গোপন আস্তানা করে সেখানে মজুত করা ছিল প্রচুর গাঁজার প্যাকেট। গাঁজা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার ভিন জেলার দুই যুবক। ধৃতদের আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে বলে দাবি পুলিশের৷

গোপন সুত্রে খবর পেয়ে জেলা পুলিশের এসওজি পুলিশ অফিসার সঞ্জু বর্মণের নেতৃত্বে নজরদারি শুরু হয় জাতীয় সড়কে। তিস্তা সেতু পার করতেই সন্দেহজনক একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ৷ অনেক চেষ্টা করেও গাঁজা পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে অনেকক্ষণ চেষ্টায় পর গাঁজার অসংখ্য প্যাকেটের সন্ধান পায় পুলিশ। ট্যাঙ্কারের মাঝে চাকার পাশে নিচে আলাদা করে কেটে গাঁজা রেখে পাচার করা হচ্ছিল। গাড়ির ভিতরে সারি সারি করে একাধিক প্যাকেটে গাজা ভর্তি ছিল। জেলা প্রশাসনের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুবল চন্দ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে গাঁজা মাপা হয়। উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। ধৃতরা হলেন জীতেন্দ্র ওঝা ও বিজয় শঙ্কর। দু’জনেই হাওড়ার লিলুয়া এলাকার বাসিন্দা৷
ধৃতরা পুলিশি জেরার জানায়, গুয়াহাটি থেকে গাঁজা তোলা হয়েছিল গাড়িতে৷ কলকাতার উদ্দেশে সেগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মাঝে শিলিগুড়িতে গাঁজা অন্য গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা ছিল। পুলিশকে আড়াল করতে পেট্রোল, ডিজেলের টাঙ্কারের ভিতরে রাখা ছিল অসংখ্য গাঁজার প্যাকেট। পেট্রোল ডিজেলের ট্যাঙ্কার হলেও গাড়িতে পিচ নিয়ে যাতায়াত করা হত বলে অনুমাণ পুলিশের। বাজেয়াপ্ত ট্যাঙ্কারটি নাগাল্যান্ডের বলে দাবি পুলিশের।

জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত বলেন, “প্রচুর গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে জলপাইগুড়ি জাতীয় সড়ক থেকে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

