সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৪ আগস্ট: ১০০ দিনের কাজের টাকা না পেয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের সামনে পঞ্চায়েতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে নালিশ জানাল ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী। আর তাতেই অস্বস্তিতে পড়েন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোপা রায়। এই নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের রনঘাট পঞ্চায়েতের আউলডাঙ্গা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন আউলডাঙ্গা গ্রামে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল এসেছিল ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান দেখতে। তারা ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান পরিদর্শন করে ফেরার সময় গ্রামবাসীর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের ঘিরে ধরে পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জানান।
ঘটনাস্থলে ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোপা রায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা ১০০ দিনের কাজের টাকা পাচ্ছেন না। তাদের জব কার্ডে টাকা ঢুকলে, সেই টাকা পঞ্চায়েত সদস্যরা তুলে নিয়ে নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। স্থানীয় সুপারভাইজারদের কাছে টাকা চাইতে গেলে বলেন, টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। ১০০ দিনের কাজ সংক্রান্ত একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলে ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীরা। এর প্রতিবাদ জানাতে যায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোপা রায়। এরপর গ্রামবাসীদের সঙ্গে শুরু হয় বচসা। গ্রামবাসী জয়দেব বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে কৃষকরা কাজ করছে অথচ আমাদের জব কার্ডের টাকা আসছে কিন্তু সুপার ভাইজাররা সেই টাকা তুলে নিয়ে নিজেরা ভাগযোগ করে নিচ্ছে। একটা চাষিও ১০০ দিনের কাজের টাকা পায়নি।

যদিও গ্রামবাসীর কথায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল তাদেরকে আশ্বস্ত করে তারা তাদের কাজের সম্পূর্ণ টাকা পাবে।
অন্যদিকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপরি গোপা রায় বলেন, ওই এলাকার সব মানুষ পিছিয়ে পরা মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকার যে আমাদের তিন বছর ধরে টাকা দিচ্ছেন না সেটা গ্রামবাসী জানেন না। ওরা নিম্নস্তরের মানুষ ওরা কে কেন্দ্র কে রাজ্য তা চেনে না। ওদের বিজেপির পক্ষ থেকে সাজিয়ে বলেছে। আমি জোর গলাই বলব কেন্দ্র সরকার আমাদের টাকা দিচ্ছে না তাই গ্রামবাসীরা টাকা পাচ্ছে না। বিজেপি ষড়যন্ত্র করছে। কিছু নিম্ন শ্রেণির মানুষকে উস্কে দিচ্ছে বিজেপি।
বিজেপি নেতা জানিয়েছে, রাজ্যের মানুষ জানেন এই রাজ্যে পঞ্চায়েতগুলিতে কারা লুঠ করছে।

