স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ২২ এপ্রিল: ভোট নেওয়ার জন্য সব কিছু প্রস্তুত ছিল, কিন্তু ভাটাররা এল না। বুথ ফাঁকাই পড়ে রইল। গ্রামবাসীরা জানিয়েছিল তাঁরা ভোট দেবে না। “নো ব্রিজ নো ভোট, বাধবো জোট দিব না ভোট,” মূলত এই দাবিকে সামনে রেখেই ১২৯ ও ১২৯–এ এই দুই বুথে ভোট দিল না গ্রামবাসীরা। বেশ কয়েক দিন ধরে গ্রামবাসীরা ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত কার্যত সফল হল। তাদের দীর্ঘ দিনের খলসি ব্রিজ। সেই ব্রিজ নির্মান হয়নি তাই ভোট দিল না গ্রামবাসীরা। গ্রামপঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধানসভা ও লোকসভা ভোট একের পর এক পার হলেও গ্রামের সেতু নির্মান না হওয়ায় এদিন হেমতাবাদ বিধানসভার ভোট বয়কটে অনড় গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।

হেমতাবাদ বিধানসভার শেরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের খলসিঘাটের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে কুলিক নদী। এই কুলিক নদীর দুইপাড়ে রয়েছে শেরপুর, গোবিন্দপুর, লাইনপাড়া, ডাঙ্গিপাড়া, বরমপুর, খোকসা, গামাডাঙ্গি, বিন্দোল, খলসি, মেহেন্দিগ্রাম সহ প্রায় তিনশটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ কুলিক নদী পাড়াপার করেন। জেলা সদর রায়গঞ্জ শহর আসা থেকে শুরু করে বিডিও অফিস, রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন কাজে শহরে আসতে গেলে এই নদী পার হয়ে আসাযাওয়া করতে হয়। বর্ষায় দুকূল ছেপে যাওয়া নদী পার হতে একমাত্র ভরসা নৌকা আর শুকনোর দিনে বাঁশের সাঁকো। মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর রায়গঞ্জ শহরে যেতে সেতু না থাকায় ঘুরপথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় তাঁদের। এতে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগার কারনে অনেক রোগীর মৃত্যুও হয়ে গিয়েছে। তাই এবার গ্রামবাসীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিজ না হলে ভোট দিচ্ছে না।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সব রাজনৈতিক দলই এই খলসিঘাট সেতু নিয়ে রাজনীতি করে চলেছে। প্রতিবার পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা কিংবা লোকসভা ভোট আসে, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায় ভোট পার হলেই আর সেতুর কথা কারও মনে থাকে না। বছরের পর বছর চরম বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন তাঁরা। এবার তাঁরা আর চুপ করে বসে না থেকে ভোট বয়কট করলেন গ্রামবাসীরা।

