Japan, Mosque, মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নামলো জাপানে, অভিযোগ জায়গা দখলের

আমাদের ভারত, ২২ এপ্রিল: জাপানের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়া এখন উত্তাল। তার রেশ ছড়িয়ে পড়িয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। সাম্প্রতিক সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শহরের প্রথম মসজিদ নির্মাণের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। সাধারণ কোনো ছোটখাটো জমায়েত নয়, বরং এই বিক্ষোভ জনমানষে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের এক নজির বিহীন বহিঃপ্রকাশ।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, প্রস্তাবিত এই মসজিদের বিশাল আয়তন জাপানের স্থানীয় প্রাচীন ঐতিহ্য শিন্তো উপাসনা গুলিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। যা তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর এক ধরনের আঘাত বা উস্কানি। জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে জাপানি ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক এই পরিবর্তনের সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ফুজিসাওয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মসজিদ কর্তৃপক্ষের ডাকা গণশুনানি গুলো প্রায়ই বিশৃঙ্খলার রূপ নিচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মূলত আজানের শব্দ এবং জাপানি ঐতিহ্যের সাথে অমিল থাকা শেষকৃত্য বা কবর প্রক্রিয়া নিয়েও তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যদিও ফুজিসাওয়া মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে তারা জাপানকে ভালোবাসেন এবং দেশের সমস্ত আইন মেনেই চলবে। কিন্তু স্থানীয়দের মন থেকে এই পরিবর্তনের ভয় পুরোপুরি কাটছে না।

এই ঘটনাটির প্রভাব পড়েছে এই দুনিয়াতেও। বিশেষ করে এক্স হ্যান্ডেলে বিশ্ব জুড়ে মানুষ জাপানের এই কট্টর অবস্থানের পক্ষে- বিপক্ষে নানা মত দিচ্ছেন। অনেকেই ভারতকে উদাহরণ হিসেবে টেনে বলেছেন যে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সময় থাকতে রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে অনুতপ্ত হতে হবে।

আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে, কিভাবে এত বড় একটি প্রকল্পের অনুমতি দেওয়া হলো? নকশা পাশের ক্ষেত্রে স্থানীয় সেন্টিমেন্টকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হলো না? তা নিয়ে চলছে চুল চেড়া বিশ্লেষণ। গ্লোবাল প্লাটফর্মে বিতর্ক এখন আর কেবল জাপানের আভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই।

অনেক নেটিজেনরা মনে করছেন এটি একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ধারা, যেখানে ধীরে ধীরে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। ফুজিসাওয়ার এই আন্দোলন এখন কেবল একটি ইমারত নির্মাণে বিরোধিতা নয়, বরং আধুনিকতার মোড়কে নিজেদের আদি সংস্কৃতি ও সক্রিয়তা টিকিয়ে রাখার একটি মরিয়া লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। জাপানের মত শান্ত সুশৃঙ্খল দেশে এই ধরনের গণ বিক্ষোভের ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বহিরাগত সংস্কৃতি এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের সহাবস্থানের বিষয়টি আরো বড় আকার নিতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *