শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ৩ মে: ২০২১ এর এই নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল। বিজেপির তাবড় নেতারা দাবি করেছিলেন ২০০-র বেশি আসন নিয়ে তৃণমূলের অপশাসনের পতন ঘটিয়ে বিজেপি তথা হিন্দুত্বের উত্থান ঘটবে। সেটা হয়নি। বরং পিকের ভবিষ্যতবানী অনুযায়ী ডবল ডিজিটে আটকে গেছে বিজেপি। আর তাতেই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেন বিজেপির ফলাফল মোদী–শাহের দাবির মতো হলো না। কিন্তু কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে হিন্দুত্ববাদীরা কিন্তু এই ফলাফলে একটুও দুঃখিত নন। বরং তারা উল্লশিত। কারণ এবারের নির্বাচনে বামেরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যেটা তাদের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। সেই কারণেই অনেক হিন্দুত্ববাদী নেতাদের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে লেখা ফুটে উঠেছে, অত্যন্ত বিষাক্ত বামমুক্ত বিধানসভা, পাঁচ বছরে ৩ থেকে ৮০। তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে।
অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে যাদের মাত্র ৩ টি আসন ছিল তারা এখন ৮০ মানে রাজনৈতিক পেরিফেরিতে তারা হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী হিসেবে পরিচিত সেই বিজেপির উত্থান। আর এই হিন্দুত্ববাদীরা যাদের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের পতন অর্থাৎ বামেরা বিধানসভায় নিশ্চিহ্ন। অর্থাৎ মেরুকরণের রাজনীতি তা যেই খেলুক তাতে কিন্তু তারা সফল। আসন সংখ্যার নিরীখে তারা নাইবা ট্রিপল ডিজিটে পৌঁছালেন, কিন্তু তাদের অন্যতম লক্ষ্যে তারা ঠিক ঠাক নিশানা তাক করেছেন ও সফল হয়েছেন।
হিন্দুত্ববাদীরা স্বপ্ন দেখেন ভারতবর্ষ একদিন হিন্দু রাষ্ট্র হবে। তাই দেশের ভিতরে যারা নিজেদের সেকুলার বলে দাবি করেন তাদেরকে আবার হিন্দুত্বের রাস্তায় ফিরিয়ে আনা এদের অন্যতম লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যে তারা সফল বলে কিছুটা প্রমানিতও বটে। কারণ ভোটব্যাঙ্কের জন্যে হলেও রাহুল গান্ধীকে এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে যেতে হয়েছে, নিজেকে হিন্দু বলে প্রমাণ করতে হয়েছে। এটা কার জয়? যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের নির্বাচনে কলেমা পড়েছেন নির্বাচনী প্রচার সভায় দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘু ভোটের জন্য। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার চন্ডীপাঠ করেছেন। মানুষকে বুঝিয়েছেন তিনি হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের কন্যা। বিজেপিকে বিপুল ভোটে হারাতে সক্ষম হলেও ভোটব্যাঙ্কের জন্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও হনুমান চালিশা পড়তে হয়েছে। তাই এই জয় কাদের জয়? অর্থাৎ সোজা পথে না হলেও বেঁকা পথে এই সেকুলার দাবি করা নেতাদের আবার হিন্দুত্বের পথে নামতে হয়েছে অস্তিত্ব টেকানোর দায়।
কিন্তু যাদের সেকুলারিজমের পথ থেকে সরানো যায়নি, তারা হল কমিউনিস্ট। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যে সেকুলার বামপন্থীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মৌলবাদের হাত ধরেছেন। যদিও তারা তাকে বার বার সেকুলার বলে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আব্বাসের বামেদের সাথে জোট করার আগের ও পরের কথার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা মানুষ বুঝতে ভুল করেনি। মানুষ তাকে এক মুহূর্তের জন্যেও মুসলিম ধর্মগুরু ছাড়া কিছুই মনে করেনি, যার প্রমাণ তারা ভোট বাক্সে দিয়েছেন। মানুষ মনে করছে বামেরা সেকুলারিজমের কথা বললেও সেকুলার নয়। ফলে এরপর আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে বামেদের বিধানসভা থেকে নিশ্চিহ্ন করে আসলে কাদের কার্য সিদ্ধি হলো।

