জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩ মে: ফলাফল ঘোষণা হতেই অগ্নিগর্ভ আউশগ্রামের দেবশালা। হিংসার আগুন গোটা গ্রামে। ভাঙ্গচুর, তছনছ করা হল বাড়ির জিনিসপত্র। উদ্ধার হয়েছে বোমা। আতঙ্কে গ্রামছাড়া বাসিন্দারা। অভিযোগের আঙ্গুল তৃণমূলের দিকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল র্যাফ, কমব্যাট ফোর্স। অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের।

ঘটনায় জানা গেছে, রবিবার ফল ঘোষণার পর দুর্গাপুর, পানাগড় সহ আউশগ্রামে হিংসার অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার বিকালে দুর্গাপুর ধোবিঘাটে বিজেপির পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কাঁকসায় বিজেপিকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আউশগ্রামের দেবশালা পঞ্চায়েতের কাঁকোরা আদিবাসী গ্রামে হামলা হয়। অভিযোগ, সোমবার সকালে তৃণমূলের বিজয় উচ্ছ্বাস হচ্ছিল। ওই সময় আদিবাসীদের মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়। গোটা গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঢুকে ভাঙ্গচুর, তান্ডব চালানো হয়। বাড়ির জিনিস পত্র ভাঙ্গচুর, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রান্না করা খাবার নষ্ট করে দেওয়া হয়। বোমাবাজি করা হয় বলে হয় বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অসহায় গ্রামবাসীরা নিরন্ন হয়ে গ্রাম ছেড়ে অনত্র পালিয়ে যায়। জঙ্গল দিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামে আশ্রয় নেয় অসহায় গ্রামবাসীরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডিসি অভিষেক গুপ্তার নেতৃত্বে বুদবুদ ও কাঁকসা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। নামে র্যাফ, কমব্যাট ফোর্স। দমকলের দুটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনাস্থলে একটি বোমা উদ্ধার করে।

বিজেপির বর্ধমান সদর জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, “বিজেপি করার অপরাধে গোটা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে তৃণমূলের লোকজন। এটাই কি গণতন্ত্র?” যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ নাসিরউদ্দিন বলেন, “শান্তিপুর্ন এলাকায় অশান্তি করছে বিজেপি। আমাদের কর্মীদের ওপর তির ধনুক নিয়ে হামলা করে। ৫ জন আহত হয়েছে।” যদিও পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”


