আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২১ এপ্রিল: নৈহাটির পর এবার ঋণদানকারী সংস্থার অত্যাচারে প্রাণ গেলো সোদপুরের এক যুবকের। কিস্তিতে গাড়ি কিনে সেই টাকা লকডাউনের কারণে ৪ মাস বকেয়া থাকায় লগ্নিকারী সংস্থার অত্যাচারে সোদপুরের ঘোলা পূর্বাঞ্চল বি ব্লকের বাসিন্দা দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের (২৪)প্রাণ যাওয়ার অভিযোগ উঠলো।
অভিযোগ, কিস্তিতে টাকা মেটানোর চুক্তিতে দেবজ্যোতি গতিধারা প্রকল্পের জন্য একটি গাড়ি কিনেছিল। মাঝে দ্বিতীয় লকডাউনের সময় ৪ মাসের কিস্তির টাকা বাকি পড়ে যায়। কিন্তু তার পর গত নভেম্বর থেকে সে ও তার বাবা মিলে প্রতি মাসে কিস্তির টাকা কোম্পানিকে দিয়ে আসছিলেন। তবে ৪ মাস কিস্তি বকেয়া থাকায় ফাইন্যান্স কোম্পানি গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করতে পারে সেই ভয়ে গাড়ি রাস্তায় বার করছিলেন না দেবজ্যোতি। কিন্তু পরবর্তীতে কোম্পানির লোকের আশ্বাসে গত ১১ তারিখ দেবজ্যোতি গাড়িতে তেল ভরে ভাড়া খাটানোর জন্য বের হয়। কিন্তু রাস্তায় ফাইন্যান্স কোম্পানির লোকেরা ৪ মাস কিস্তি বাকি আছে এই অভিযোগ তুলে তার গাড়িটি ঘোলা মুরাগাছা মোড় থেকে নিয়ে চলে যায়। এর পরই সেই দিনই দেবজ্যোতি সোদপুর ৬, নম্বর রেল গেটের ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়।

তার বাড়ির লোকের অভিযোগ, দেবজ্যোতির শুধু ৪ মাসের কিস্তির টাকা বাকি ছিল, কিন্তু বর্তমানে সে আবার মাসে মাসে কিস্তির টাকা শোধ করছিল। তার বাড়ির লোকের অভিযোগ, “দেবজ্যোতি তার গাড়িটিকে খুব ভালো বসত। ওর ভয় ছিল, যে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরলেই তার গাড়ি নিয়ে নেওয়া হবে, সেই ভয়ে সে গাড়ি চালাচ্ছিল না, বাড়িতেই রেখেছিল। কিন্তু যারা কিস্তির টাকা বাড়িতে এসে সংগ্রহ করতো তারাই আশ্বাস দিয়েছিল যে, সে প্রতিমাসে কিস্তির টাকা দিচ্ছে তাই তার গাড়ি রাস্তায় বাজেয়াপ্ত করা হবে না। তাদেরই আশ্বাসে ১১ তারিখ বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে
বেরিয়েছিল দেবজ্যোতি এবং তারপর তার গাড়ি নিয়ে নেওয়া হয় ।
পরিবারের লোকের আরো অভিযোগ, “ফাইন্যান্স কোম্পানির লোক এমন কিছু করেছে বা বলেছে তাই বাধ্য হয়ে অপমানে আত্মহত্যা করেছে আমাদের ছেলে”। তাদের দাবি, ফাইন্যান্স কোম্পানির কথা শুনে কিস্তিতে গাড়ি কেনা উচিত না, কারণ ঋণ দানকারী সংস্থাগুলি কোনো মাসে কিস্তির টাকা মেটাতে না পারলে গ্রাহকদের সাথে খুব বাজে ব্যবহার করে”।
গত ১৮ এপ্রিল দেবজ্যোতির বাবা ঘোলা থানায় ঋণ প্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য গাড়ি চালিয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। ঋণ প্রদানকারী সংস্থার চাপে যুবকের মৃত্যু নৈহাটির ঘটনার পর ঋণ প্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে সরব ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ঘোলা পূর্বাঞ্চলের দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের পরিবারের লোকজন। এই সমস্ত ঘটনার অভিযোগ পেতেই তদন্তে নেমেছে ঘোলা থানার পুলিশ।

