আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ২৮ নভেম্বর: সাত সকালে আলিপুরদুয়ার জেলার দুর্গম বক্সা পাহাড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার চালু করলো আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হল এলাকায়। এতদিন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে বাঁশের মাচায় শুইয়ে কাঁধে করে নিয়ে যেতে হত।
জানাগেছে, স্বাধীনতার পর থেকেই ওই এলাকায় এতদিন পর্যন্ত কোনও স্বাস্থ্য পরিষেবার না থাকায় ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র অথবা জেলা হাসপাতালে ওপর নির্ভর করতে হতো এলাকার কয়েক হাজার গ্রামবাসীদের। যন্ত্রনা বা অসুস্থতা যতই থাকুক বক্সা পাহাড়ের দুর্গম পথ পায়ে হেঁটেই যেতে হতো চিকিৎসা করাতে। ফলে সমস্যায় ছিলেন বুক্সা, আদমা, চুনভাটির মত এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষদ। অসুস্থ হলে একমাত্র ভরসা বাঁশের মাচা। তাও আবার বয়ে নিতে প্রয়োজন হয় ৪ জন যুবকের। বাঁশের মাচায় প্রায় ৪ কিমি পথ বয়ে নিয়ে তবে গাড়ি ধরে হাসপাতাল যেতে হতো। তাতে সময় লাগতো প্রচুর। এমনকি অনেক রোগীর মৃত্যুও হয়েছে। অবশেষে এলাকার নাগরিকদের আবেদনে সাড়া দিয়ে এলাকায় একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন।

ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৬ লক্ষ টাকা। এদিন প্রাথমিক ভাবে ৩ বেড নিয়ে বাতানুকূল স্বাস্থ্য কেন্দ্রের শুভ সূচনা হয়। আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা ফিতে কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির শুভসূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রকাশচিক বড়াইক ও কালচিনি ব্লক আধিকারিক পরিতোষ বর্মণ সহ অন্যান্য অতিথিরা। স্বাধীনতার পর এই প্রথম এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সূচনা হওয়ায় খুশি এলাকার গ্রামবাসীরা।


