আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৭ আগস্ট: নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে এসে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি এই ঘটনাকে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত এবং সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যা দেন।

হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভঙ্কর সরকার প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। তিনি বলেন, “১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের মতো দিনে রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত থাকার কথা। পুলিশ প্রশাসনের এত সতর্কতা এবং শুনশান রাস্তার মধ্যে কীভাবে প্রকাশ্যে এমন নৃশংস জোড়া খুন হতে পারে?” পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে চরম ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ কোনও বিবাদের জেরে নয়, এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
খুনের পেছনে রাজনৈতিক কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দাবি করেন, “আনিসুর রহমান ছিলেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য এবং এলাকার একজন জনপ্রিয় ও লড়াকু নেতা। বহু সৎ পঞ্চায়েত সদস্য ও স্থানীয় নেতা দুর্নীতি ও দুষ্কৃতিরাজের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আনিসুরের নেতৃত্বে কংগ্রেসে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কংগ্রেসের এই পুনরুত্থান রুখতেই তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত হয়েছে।” তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, যারা আগে তৃণমূলের ছত্রছায়ায় গুন্ডামি ও মাস্তানি করত, তারা এখন ক্ষমতার রঙ বদলে বিজেপির মদতে একই অপকর্ম চালাচ্ছে।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও সুর চড়ান শুভঙ্কর সরকার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা জেলার পুলিশ সুপার কেন সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছালেন না? মৃত ব্যক্তি যেখানে মৃত্যুর আগে ‘ডাইং স্টেটমেন্ট’ দিয়ে গেছেন, সেখানে পুলিশ এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট করে কোনও সাংবাদিক সম্মেলন কেন করছে না? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান তিনি।
এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে অবিলম্বে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি টাকা দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কংগ্রেস কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বা খুন করে দমানো যাবে না। এই খুনের প্রতিবাদে কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে আন্দোলন সংগঠিত করছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে লড়াই জারি রাখবে।

