আমাদের ভারত, ১৭ আগস্ট: বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনের বড়সড় রদবদল হলো। সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের নতুন তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে জায়গা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২ জন। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ- সভাপতি হয়েছেন মধুছন্দা কর ও জাতীয় সম্পাদক হয়েছেন মনোজ টিগ্গা। তবে নতুন তালিকায় বড় যে বদল নজরে এসেছে, তা হলো আইটি সেলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে অমিত মালব্যকে।
যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে লোকসভার সংসদ তেজস্বী সূর্যকে। সর্বভারতীয় সহ- সভাপতি হিসেবে প্রত্যাবর্তন হয়েছে রাম মাধবের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযুষ গোয়েলকে বিজেপি নতুন কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে রয়ে গেছেন কর্ণাটকের নেতা বি এল সন্তোষ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নীতিন নবীন এবং দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ এর মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। এরপর সোমবার নতুন কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের নামে সীলমোহর দেওয়া হলো।
বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠনে এই রদবদলে নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে রাজ্যের বিজেপি চিকিৎসক নেত্রী মধুছন্দা কর। বর্তমানের রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সেলের সভাপতি ছিলেন তিনি।
এই রদ বদলে সর্বভারতীয় সংগঠনে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন ত্রিপুরার বিপ্লব দেব। বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পেয়েছেন। ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন নীতিন নবীন।
নতুন কমিটিতে তেরো জন সর্বভারতীয় সহ- সভাপতির মধ্যে ছয় জনই মহিলা, অর্থাৎ প্রায় ৪৬ শতাংশ মহিলা এই তালিকায় রয়েছেন। জাতীয় সংগঠনে মহিলা নেতৃত্বের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে, যা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও উত্তর পূর্বের একাধিক নেতা ও নেত্রী জায়গা পেয়েছেন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মনোজ টিগ্গা উল্লেখ যোগ্য।
২০২৯ সালে লোকসভা ভোট রয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর উত্তর প্রদেশ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেইসব কথা মাথায় রেখে নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতাদের রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী ও ভারসাম্য মূলক করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে এই বদল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রণকৌশলের প্রস্তুতি।
দলীয় রদবদল পর্ব মিটে গেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অদল বদল হতে পারে। সেখানেও চমক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ নজর থাকবে তরুণ নেতৃত্ব ও মহিলা নেতৃত্বের দিকে।
নতুন কমিটি গঠন থেকে স্পষ্ট ২৯- এর লড়াইকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরো বিস্তৃত, সামাজিক ও আঞ্চলিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতেই জোর দিয়েছে বিজেপি।

