আমাদের ভারতের, পূর্ব মেদিনীপুর, ১১ নভেম্বর: এই সরকার দেউলিয়া সরকার। পেট্রোল ডিজেলের সেস ও মদ বিক্রি করে সরকার চলছে। পুজোতে মদ বিক্রি করেছে ৭০২ কোটি টাকার। রাজ্য সরকার সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী এই চারদিন ৭০২ কোটি টাকার মদ বিক্রি করেছে। বেকার যুবক যুবতীদের ধ্বংস করছে। মহিলাদের বলবো ৫০০ টাকা ফেলে দিয়ে মদের বিরুদ্ধে ঝাঁটা ধরুন। তমলুকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজ এই কথাগুলো বলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের উন্নয়ন স্তব্ধ। কন্ট্রাকটরা টাকা পাচ্ছেন না। এই প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, সরকারের কোনও টাকা নেই। এই সরকার ডোল বিতরণ করতে গিয়ে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও বলেছেন রাজ্যে যদি একটা শিল্প না আসে, নিজস্ব ভ্যাট না বাড়ে। আর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক না রাখে তাহলে এই অবস্থাই হবে। এই যেমন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ভুয়ো কার্ডে পরিণত হয়েছে। এখন তো বলে দিয়েছে ৫০০০ টাকার বেশি পরীক্ষার নিরীক্ষার জন্য দেওয়া হবে না। আপনারা নিজেরাই জানেন, রক্তের একটা প্যাকেজ পরীক্ষা করতে ৯০০০ টাকার বেশি লেগে যায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান কার্ডের সুযোগ নিলে এই অসুবিধা হতো না।
গায়ের জোরে নিজের নাম, নিজের ভোটব্যাঙ্ক ঠিক রাখার জন্য রাজ্যটাকে দেউলিয়া করেছে। ক্লাবগুলোকে ১২০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। যার অর্ধেকটাই কোনও ব্যবহার হয়নি। দু’দফায় ক্লাবগুলিকে দেওয়া ৫ লক্ষ টাকার কোনও কাজ হয়নি। টাকা লুট হয়েছে। দুর্গাপূজাতে ২০০কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ইমাম ভাতা ও মোয়াজ্জেম ভাতার নামে এখনও পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তাহলে উন্নয়ন বা বাঁধ মেরামত হবে কি করে। উন্নত আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা হবে কি করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যটাকে দেউলিয়া করে দিয়েছে।

পেট্রোল ডিজেলের উপর রাজ্য সরকারের সেস কমানোর দাবিতে আজ তমলুকের মানিকতলা মোড় থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল হয়। এই মিছিলে কয়েক হাজার বিজেপি কর্মী সমর্থক ও নেতৃত্ব অংশ নিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই মিছিলে হাঁটার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অন্য জায়গায় কাজে আটকে যাওয়ায় মিছিলের শেষে সভায় এসে যোগ দেন। এবং সভার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপরের কথাগুলো বলেন। মঞ্চ থেকেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন।

