আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ১১ জানুয়ারি: কথা বলার সুযোগ পেলেই মানুষ উগড়ে দিচ্ছেন ক্ষোভ। মানুষ ভয়, ভীতির পরিবেশের মধ্যে থেকেও সুযোগ পেলেই সাফ জানাচ্ছে তারা কয়লা খনির বিপক্ষেই। আবার অনেক মানুষ মনে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারছেন না, পাছে নেমে আসে শাসানি, হুমকি। দেউচা পাঁচামি জুড়ে প্রস্তাবিত কয়লা খনি এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এখন এমনই পরিস্থিতির শিকার। যার ফের প্রমাণ মিলেছে মঙ্গলবার। প্রমাণ পেয়েছেন সংযুক্ত মোর্চার বিধায়ক তথা আইএসএফ এর চেয়ারম্যান মহম্মদ নওশাদ সিদ্দিকি। ভাঙর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এদিন গিয়েছিলেন দেওয়ানগঞ্জ। প্রস্তাবিত কয়লা খনি নিয়ে এলাকার মানুষের মনোভাব কি, মানুষ আখেরে কি চাইছেন তা জানাই ছিল এদিনের পরিদর্শনের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে আইএসএফ।
এদিন দেওয়ানগঞ্জের আদিবাসী পাড়া, সংখ্যালঘু নিবিড় এলাকা উভয়ই পরিদর্শন করেন আইএসএফের প্রতিনিধিদল। বলা বাহুল্য, ঠিক একইভাবে সেই প্রতিনিধিদল কোথায় যাচ্ছেন, কি করছেন, কার সাথে কথা বলছেন এবং এলাকার মানুষই বা কে কি বলছেন তা নজরদারির জন্য বাইক বাহিনীর প্রহরাও ছিল বেশ কড়া। পুলিশ, শাসকদল মিলেমিশেই এই প্রহরা দেওয়ার কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আইএসএফ নেতৃবৃন্দ। দেওয়ানগঞ্জের মুসলিম পাড়ার বছর পয়ষট্টির এক বৃদ্ধ তো তুমুল ক্ষোভের সাথে বলেছেন, “এখানে খনি হতে দেব না। খনি করে কি হবে? আমাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে। আর বাইরে থেকে বাবুরা এসে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেবে।” ওই পাড়ারই অপর এক গৃহবধু বলেছেন, “ক্যামেরা করবেন না। তাহলেই বিপদ। ছবি দেখে পড়ে এসে ওরা শাসাবে। তবে আমরা কেউ কয়লা খনি চাই না।” আবার দেখা গেছে, আদিবাসী পাড়ায় মহিলারা দলবেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল। কথাও বলার ইচ্ছা ছিল তাদের। কিন্তু প্রহরায় থাকা বাইক বাহিনী দেখে তারা মুখ লুকিয়ে দেন। এক মহিলা ইশারায় জানিয়ে দেন, “ওই দেখছেন না ওদের। কথা বললেই পরে ডেকে পাঠাবে।”

এলাকা ঘুরে আইএসএফ চেয়ারম্যান বিধায়ক মহম্মদ নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “আমরা এলাকার মানুষের মতামত জানতে এসেছিলাম। মানুষের কথা বিধানসভায় তুলে ধরব। তবে এটা বুঝতে পেরেছি, মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আছে। কথা বলতে ভয় পাচ্ছে।” এরপর এদিন সিউড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরের স্মারকলিপি জমা দিয়েছে আইএসএফ। সেখানে দাঁড়িয়ে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেছেন, “উন্নয়নের বিরোধী আমরা নই। কিন্তু উন্নয়ন মানে যদি হয় পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষকে সর্বহারা করা, কর্পোরেটদের মুনাফা বৃদ্ধির বন্দোবস্ত তাহলে বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষেরই পক্ষ নেব আমরা।”

