সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১ ফেব্রুয়ারি: সারা রাজ়্যজুড়ে বিজেপির ঘরোয়া কোন্দল প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। সেই রেশ বাকুঁড়া জুড়েও দেখা দিয়েছে। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদত্যাগ চেয়ে পোস্টারিংয়ের পর এবার বাঁকুড়ার জেলা সভাপতির বিরুদ্ধেও পদত্যাগ চেয়ে পোস্টার পড়ল। মঙ্গলবার সকালে দলের তালডাংরা মন্ডল কার্যালয়ে এই পোস্টার দেখে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মহলেই নয় বিজেপির অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
যদিও এই ঘটনাকে তৃণমূলের কাজ বলেই আঙুল তুলেছেন জেলা সভাপতি সুনীলরুদ্র মন্ডল। তিনি বলেন, দলে কোনো বিভাজন নেই। নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর ফলে দলের যুব সংগঠন সহ শাখা সংগঠন গুলিতে উৎসাহ ও উদ্দীপনা যে ভাবে বেড়েছে তা দেখে তৃণমূল ভয় পেয়ে গেছে। তবে এতে দলীয় ভাবে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হলেও দলের ঐক্যে কোনো ফাটল তৈরি হয়নি। কিন্তু তৃণমূল ভয় পেয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে তাদের পেটোয়া কিছু দুষ্কৃতি পোস্টার সাঁটিয়ে বিজেপির নীচুতলায় হতাশা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে তৃণমূলের কিছু লাভ হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দলের সভাপতি আত্মপক্ষ সমর্থনে কথা বললেও রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভায় বিজেপির সারা রাজ্যে ভরাডুবি হলেও বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় নজরকাড়া ফল করেছে। বাঁকুড়া পুরসভার ২৪ টি ওয়ার্ডেই তাদের ফল ভালো। কিন্তু দল এখন সক্রিয় এবং পুরনো নেতা কর্মীদের ছেঁটে ফেলাতেই জোর দিচ্ছে। তাদের মতে দলীয় কোন্দলে ব্যস্ত না থেকে সকলকে নিয়ে সংগঠনে নজর দিলে বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী তিনটি পৌর নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারত।
এবিষয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক তৃণমূল। দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র বলেন, আমরা ভাবছি পুরসভা নির্বাচনে আমরা কার সাথে লড়াই করব। একটা শক্ত বিরোধী দল থাকলে তবে তো লড়াই করে মজা। তবে বিজেপির জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবিতে যে পোস্টার ও স্যোশাল মিডিয়ায় খিস্তি খেউড় চলছে সেটা ওদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।

