“দুয়ারে মদ” প্রকল্পের বিরোধিতায় বাঁকুড়ায় রাস্তা অবরোধ এসইউসিআই’য়ের মহিলা শাখার

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ মে: দুয়ারে মদ প্রকল্পের বিরোধিতায় আজ
এসইউসিআই’য়ের মহিলা শাখা সারা ভারত মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠন মাচানতলা মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। রাজ্য সরকার যেমন ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে তেমনই ‘দুয়ারে মদ’ প্রকল্প চালু করেছে বলে অভিযোগ এসইউসিআই দলের মহিলা শাখার।

এদিন বাঁকুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মাচানতলায় সংগঠনের মহিলারা রাস্তা অবরোধ করার আগে একটি প্রতিবাদ মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তা জেলাশাসকের দপ্তর, পুলিশ সুপারের অফিস ও আবগারী বিভাগ ঘুরে মাচানতলায় হাজির হয়। তাদের দাবি ‘দুয়ারে মদ’ নয়, সম্পূর্ণরূপে মদ নিষিদ্ধ করতে হবে। সংগঠনের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি কবিতা সিংহ বাবু বলেন, সরকারের দুয়ারে রেশন প্রকল্পে অনেক ত্রুটি থাকলেও সমর্থন করি। কিন্তু “দুয়ারে মদ” কখনই নয়, তাই এই সর্বনাশা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের বিশেষ করে মহিলাদেরই লড়াই করতে সামনের সারিতে আসতে হবে।

সংগঠনের জেলা সম্পাদক সুষমা মাহাতো বলেন, বিহারের মত এরাজ্যেও মদ বিক্রি আইন করে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীর ভান্ডার চালু করে যে ৫০০ টাকা করে দিচ্ছেন, তার বিষময় ফল কি হচ্ছে তার কোনো খোঁজ রাখেন? এই লক্ষীর ভান্ডারের নাম করে ৫০০ টাকা ভিক্ষা দিয়ে ঘুরিয়ে তিনি ৫০০০ টাকা কেড়ে নিচ্ছেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যে মহিলা ওই টাকা পেলেন, সেটা তার স্বামী বা লায়েক হয়ে যাওয়া ছেলে কেড়ে নিয়ে মদ খাচ্ছে। তার উপর রেশনের চাল, গমও বিক্রি করে মদে ঢালছে।

জানা গেছে, রাজ্য সরকার এবছর মদ বিক্রি করে ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। তার প্রথম ২ মাসেই ঠান্ডা বিয়ার বিক্রি করে ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘরে তুলেছে রাজ্য সরকার। আরও একটি পরিসংখ্যান থেকে জানাগেছে, গত বছর মদ বিক্রি করে ১২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল সরকার। বছরের শেষে তা সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় দিয়েছিল। এবারও সেই আশা করাই যায়। কেননা ঠান্ডা বিয়ার একাই বছরের প্রথম ২ মাসে ৪০০ কোটি ঘরে এনে দিয়েছে।

এসইউসিআই দলের কৃষক সংগঠনের নেতা দিলীপ কুন্ডু বলেন, আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, তিনি একবার গ্রামের ছবিটা তদন্ত করে দেখুন। প্রতিটি পরিবারের বেকার ছেলে মেয়ের সংখ্যায় ভরে গেছে। হতাশা গ্রাস করেছে। তারা মদ গাঁজা খেয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তাই এখনই মদ-বিয়ার সহ সমস্ত মাদকদ্রব্য আইন করে বন্ধ করুন। তা নাহলে আগামী প্রজন্মের শিরদাঁড়া বেঁকে যাবে। যুব সমাজের অবক্ষয় রোধ করা অসম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *