স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২২ ডিসেম্বর: ৬০ টাকার লটারি কেটে ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল রায়গঞ্জের দুঃস্থ এক ভ্যান চালকের৷ দীপক দাস নামে ওই ভ্যান চালকের বাড়ি রায়গঞ্জের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় বরুয়া এলাকায়।

প্রতিদিন রায়গঞ্জ শহরে ভুটভুটি চালিয়ে চার মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ৬ জনের পরিবারের কোনও রকমে অন্নের সংস্থান করেন বড় বরুয়া গ্রামের বাসিন্দা দীপক দাস। ঘরে তাঁর চার মেয়ে। চার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার অর্থ বা সামর্থ্য কোনওটিই ছিল না তাঁর। লটারি প্রাপ্তির আশায় বছর দেড়েক ধরে নিজের দিনমজুরি রোজগারের কিছু টাকা দিয়ে লটারি কেটে চলেছিলেন তিনি। মাঝে দু’একবার সামান্য কিছু টাকা পেলেও বেশিরভাগ দিনই টাকা জলে যেত। কিন্তু তাতেও আশা ছাড়েননি তিনি। লটারি কাটা অব্যাহত ছিল তাঁর। অবশেষে মঙ্গলবার ভাগ্যের শিকেয় ছেঁড়ে ভ্যান চালকের। দুপুরে কাজের ফাঁকে ৬০ টাকা দিয়ে লটারি কেটেছিলেন। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার সময় লটারির দোকানে টিকিটের নং মেলাতেই দেখেন তাঁর টিকিটে ১ কোটি টাকার পুরষ্কার লেগে গেছে। এই ঘটনার খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। এরপরেই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই রায়গঞ্জ থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই ভ্যান চালক।

লটারিতে কোটিপতি দীপক দাস বলেন, চার চারটি মেয়ে। কিভাবে মেয়েদের বিয়ে দেবেন তিনি বুঝতে পারছিলেন না। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল। অবশেষে ভগবান মুখ তুলে চেয়েছে। এখন চার মেয়ের ধুমধাম করে বিয়ে দিতে পারবেন বলে জানান তিনি।
দীপক দাসের প্রতিবেশি স্থানীয় বাসিন্দা রিপণ সরকার বলেন, দিনমজুর হতদরিদ্র ভুটভুটি চালক দীপক দাস ১ কোটি টাকার লটারি পাওয়ার খবর শোনা মাত্রই রায়গঞ্জ থানার পুলিশ দীপক দাসকে যথেষ্ট নিরাপত্তা সহকারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে।

