ফের কাজোড়ায় ডায়েরিয়ার প্রকোপ, আক্রান্ত ৩০ জন

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৬ নভেম্বর: ফের ডায়েরিয়ার প্রকোপ। গত দু’দিনে প্রায় ৩০ জন আক্রান্ত। কুঁয়োর জলই একমাত্র পানীয় জলের উৎস্য। বছর ঘুরলেও পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ। আর তাতেই ক্ষোভ বাড়ছে অন্ডালের কাজোড়া রুইদাস পাড়া এলাকায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল। বন্ধ করা হল কুঁয়োর জল পান। 

ঘটনায় জানাগেছে, অন্ডাল ব্লকের কাজোড়া পঞ্চায়েতের ২১ নং ওয়ার্ড হল রুইদাস পাড়া। গত শুক্রবার আচমকা বাসিন্দাদের কয়েকটি পরিবারে পায়খানা, বমির উপসর্গ দেখা দেয়। ঘটনায় মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সন্ধে পর্যন্ত ২০ জন আক্রান্ত হয়। তাদের খান্দরা ব্লক হাসপাতাল ও আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তাদের মধ্যে কয়েকজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এদিনও আবার ১৩ জনের মত নতুন করে আক্রান্ত হয়। বেগতিক বুঝে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ডায়েরিয়ার প্রকোপ বাড়তেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল। গোটা এলাকায় ও আশপাশের ব্যবহার করা পুকুরে ব্লিচিং ছড়ানো হয়। প্রায় দু’শ পরিবার বসবাস করে। তাদের পানীয় জলের একমাত্র উৎস্য কুয়ো। স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুমান, কুঁয়োর জল দূষিত হওয়ায় ডায়েরিয়ার প্রকোপ। এদিন কুয়োটিকে বাঁশ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত খাবার জলের ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে পানীয় জলের ব্যবস্থা করে। যদিও প্রতি বছর একইরকমভাবে ডায়েরিয়ার প্রকেপে ক্ষোভ ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “গতবছর এরকম সময় ডায়েরিয়ার প্রকোপ হয়েছিল। তার আগেও হয়েছে। বহুবার নলকূপ কিম্বা বিকল্প পরিশ্রুত পানীয় জল পরিষেবার দাবি জানিয়েছি। সুরাহা হয়নি।”

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শিলা রুইদাস জানান,
“বহু পুরোনো কুয়ো। অনুমান কুয়োর জল দূষিত হয়েছে। কু্য়ো বন্ধ করে, বিকল্প পানীয় জলের ব্যবস্থার জন্য পাঞ্চায়েতে জানিয়েছি।” 

কাজোড়ার পঞ্চায়েত প্রধান প্রাণকৃষ্ট নুনিয়া বলেন, “আপাতত কুয়োটি বন্ধ করা হয়েছে। অফিস খুললে কুয়োর জল পরীক্ষা করা হবে। ট্যাঙ্কের মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে খন্দরা পঞ্চায়েতের সিদুলীর লঙ্কাপুরী এলাকায় গত দু-তিন দিন ধরে দেখা দিয়েছে ডায়েরিয়ার প্রকোপ। ৫ জনের মতো আক্রান্ত হয়েছে সেখানে।

ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধিকারিক পরিতোষ সোরেন জানান, “পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *