বালুরঘাটে তান্ত্রিক স্বামীর কু-সংস্কারের শিকার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, শ্মশান লাগোয়া আত্রেয়ী নদী থেকে উদ্ধার নগ্ন দেহ

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৯ ফেব্রুয়ারি: তান্ত্রিক স্বামীর কু-সংস্কারের শিকার হলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। শ্মশান লাগোয়া আত্রেয়ী নদী থেকে উদ্ধার নগ্ন দেহ। বুধবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাট ব্লকের পাগলীগঞ্জ এলাকায়৷ আত্মহত্যা না কি খুন! তা দিয়ে ধন্দে রয়েছে পুলিশ। যদিও স্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের অভিযোগ তুলেছেন মৃতার মা মিনাক্ষী মুরারি। তার অভিযোগ, নিজের তন্ত্রমন্ত্রের সফলতার জন্যই মেয়েকে খুন করেছে জামাই। এদিন সকালে এই ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় বালুরঘাট থানার পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই মহিলার নাম পাখি মুর্মু(২১)। মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার বেশ কয়েকবছর আগে বালুরঘাটের সৈয়দপুরের বাসিন্দা স্বপন মুর্মুর সাথে বিয়ে হয়। যাদের চারবছরের একটি শিশুপুত্র ছাড়াও পাঁচ মাসের অন্তস্বত্ত্বা ছিলেন মৃত ওই মহিলা। জানা যায়, প্রায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন ওই মহিলা। মহিলার স্বামী স্বপন মুর্মু তান্ত্রিক মতে কখনও শ্মশানে কখনও বাড়িতে পুজো ও যাগযজ্ঞ করতেন। স্ত্রী নিখোঁজ হবার পর থেকেই নিজেকে একপ্রকার ঘর বন্দি করে নিয়েছিল স্বপন। ঘরেই ত্রিশূল, তীর ধনুক দিয়ে পূজার্চনা করছিল কয়েকদিন ধরেই। কাউকে ঢুকতেও দেয়নি সেই ঘরে বলেও অভিযোগ। যাতেই কিছুটা সন্দেহ হয় স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের লোকেদের মধ্যে। এদিন সকালে পাগলীগঞ্জের শ্মশান লাগোয়া এলাকা থেকে নিখোঁজ ওই মহিলার নগ্ন দেহ উদ্ধার হতেই তুমুল হইচই পড়ে যায়।

মৃতার মা মিনাক্ষি মুরারি জানান, তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। জামাই বেশ কিছুদিন ধরেই তন্ত্র মন্ত্র শিখছিলেন। যা বাধা দেবার চেষ্টা করছিল মেয়ে। আর তার জেরেই জীবন হারাতে হল মেয়ের।

যদিও মৃতার শ্বশুর বাড়ির অভিযোগ, তাদের ছেলেও একই দিন থেকে নিখোঁজ ছিল। দুদিন আগেই ছেলে বাড়িতে এলেও বৌমার খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার যা নিয়ে বালুরঘাট থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগও দায়ের করা হয় পরিবারের তরফে। এরপর বুধবার সকালে পাগলীগঞ্জ শ্মশান থেকে দেহ উদ্ধার হয়। যার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তে নেমেই ঘটনার মূল অভিযুক্ত স্বপন মুর্মুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্বপন মুরমুর মা মিনাক্ষি সরেন জানান, ছেলে বেশ কিছুদিন ধরে তান্ত্রিক সাধনা করছিল। এ নিয়ে বৌমা বাধাও দিয়েছিল। এমনকি নিখোঁজ হবার দিন দু’জনেই একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এর একদিন পরে ছেলে ফিরে এলেও বৌমা আর ফেরেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *