আমাদের ভারত, ২৫ জুলাই: পার্থ চট্টোপাধ্যায় অর্পিতা মুখোপাধ্যায় কাণ্ড নিয়ে সোমবার বিকেলে প্রথমবার মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী নজরুল মঞ্চ থেকে। একাধিক মন্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বলতে চেয়েছেন অর্পিতার সঙ্গে তৃণমূলের কোনো রকম যোগ নেই। একইসঙ্গে বলেছেন দুর্নীতির অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় তাহলে পার্থর বিরুদ্ধে কোর্ট ব্যবস্থা নিক। কিন্তু এর পাল্টা দিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন তৃণমূলের দুর্নীতি রসুনের কোয়ার মতো। আর এর মধ্যমণি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই পাহাড় প্রমাণ নিয়োগ দুর্নীতি খানিকটা গা থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করতে দেখা গেছে আজ মুখ্যমন্ত্রীকে। তার একাধিক মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দাবি করতে চেয়েছেন এই দুর্নীতির সঙ্গে তার দলের ও সরকারের কোনো যোগ নেই। অর্থাৎ যেনতেন প্রকারে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তৃণমূল সুপ্রিমো খোদ মাঠে নেমেছেন। আর সেটা করতে গিয়ে এই পুরো ঘটনাকে একটি ট্র্যাপ বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কিন্তু এই পুরো ঘটনার সমালোচনায় মুখর হয়েছেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তার কথায় “ব্রিটিশ আমলে যেমন কালেক্টর থাকতো এখনো ঠিক তেমনি রয়েছে। কেউ বালি খাদান থেকে টাকা তোলে, কেউ কয়লা থেকে, কেউ আবার এসএসসি টেট থেকে।” এক্ষেত্রে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও তিনি ছাড়েননি। তিনি বলেছেন, এই নিয়োগ যখন হয়েছিল তখন শুভেন্দু তৃণমূলেই ছিলেন। তাঁর কথায়, “দুর্নীতিতে তৃণমূল হল রসুনের কোয়ার মত। জুড়ে জুড়ে থাকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সবাই এক।”
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বলেন, “এটা শুধু একটা অর্পিতা, একটা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিষয় নয়। এটা এখন বাংলার সিস্টেম। সবটাই টাকা আর টাকা। পঞ্চায়েত পৌরসভা থেকে সরকারের উপর তলা পর্যন্ত এই দুর্নীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, “এই সমস্ত কিছুর মধ্যমণি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
তিনি জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগামী বুধবার কলকাতায় তিন তিনটে মিছিলের ডাক দিয়েছে বামেরা। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলি থেকে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় পার্ক সার্কাস, হাওড়া স্টেশন এবং শিয়ালদা স্টেশনে তিন জায়গা থেকে মিছিল হবে। শেষ হবে এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের অবস্থান মঞ্চে গিয়ে।

