আমাদের ভারত, ২৫ জুলাই: রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি ১২০ কোটি টাকার দুর্নীতি। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে জানালেন ইডির আইনজীবী। তার মধ্যে মাত্র ২১ কোটির হদিস মিলেছে। তদন্তের গোড়ায় যেতে পার্থকে জেরার প্রয়োজন। তাই ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে ইডির তরফে।
গত শনিবার সকালে শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে ইডি, ওই দিনই তাকে আদালতে পেশ করা হয়। তাকে দুদিনেরই হেফাজত দেয় আদালত। সোমবার আবারও এই মামলার শুনানি হয় ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। শিল্পমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ কি? তাকে আবার হেফাজতে ইডি পাবে কিনা সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে। আদালত সূত্রে খবর, সোমবার ইডির তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি ১২০ কোটি টাকার। আর তাতে উদ্ধার হয়েছে মাত্র কুড়ি কোটি টাকা। সেই কারণে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জেরা করা জরুরি। তাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ১৪ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ১৪ দিন না হলে নিদেনপক্ষে ১২ দিনের জন্য পার্থকে ইডি হেফাজতে চাইছে। ইডির দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় কোনোভাবে তদন্তে সাহায্য করছেন না। অথচ কোথা থেকে টাকা এল? কে কে জড়িত সেটা জানা প্রয়োজন। সেই কারণেই পার্থকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে শনিবার গ্রেপ্তার করে ইডি তাকে আদালতে পেশ করে। আদালত তাকে দুদিনেরই হেফাজত দিয়েছিল। সোমবার তাকে আদালতে পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু ইডির দাবি মেনে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পার্থর চেকআপের জন্য তাকে ভুবনেশ্বর এইমসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। এর প্রেক্ষিতে শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইডির আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী সুস্থ। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত একাধিক নথিও পেশ করে ইডি দাবি করেছে অসুস্থতা নিয়ে পার্থ মিথ্যা বলেছেন।
ইডির আইনজীবী জানিয়েছেন, তল্লাশিতে থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস নিয়ে পার্থ কিছু বলতে চাননি এবং পার্থ ও অর্পিতার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সে ব্যপারেও মুখ খোলেননি। অথচ এটি অত্যন্ত সিরিয়াস দুর্নীতি। সেই কারণেই পার্থকে হেফাজতে নেওয়া জরুরি। পার্থ ও অর্পিতার নামের যৌথ সম্পত্তি রয়েছে তাহলে তাদের মধ্যে কি এমন সম্পর্ক রয়েছে সেটাও জানা দরকার বলে দাবি করেছে ইডি।

