লুপ্তপ্রায় গোসাপের দেহাংশ পাচার চক্রের হদিশ বালুরঘাট, পুলিশের জালে কিষাণগঞ্জের চার যুবক

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ জুলাই: লুপ্তপ্রায় গোসাপের দেহাংশ পাচারের অভিযোগ ঘিরে তুমুল উত্তেজনা। শনিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট পাবলিক বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার। ঘটনায় কিষাণগঞ্জের ৪ যুবককে আটক করবার পাশাপাশি ব্যাগ ভর্তি গোসাপের চামড়াও উদ্ধার করেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজমিস্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বাসস্ট্যান্ডের পেছনের একটি লজে বেশকিছুদিন ধরে ভাড়া ছিলেন কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা বেশকিছু যুবক। যেখান থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গোপনে লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ওই গোসাপগুলি সংগ্রহ করত তারা। ওইদিন রাতের অন্ধকারে গোসাপগুলির পচা দেহাংশ এলাকায় ফেলতে গিয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে কিষাণগঞ্জের চার যুবক। যাদের কাছ থেকে গোসাপের বেশকিছু চামড়াও উদ্ধার করে পুলিশ। যাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযুক্তদের ঘেরাও করে মারমুখী হয়ে ওঠেন উত্তেজিত বাসিন্দারা। যদিও পুলিশ পৌঁছে ওই চার যুবককে আটক করে স্বাভাবিক করে পরিস্থিতি। তবে লুপ্তপ্রায় ওই গোসাপগুলি ধরবার পর সেগুলি কি কাজে ব্যবহার করত ওই যুবকেরা তা নিয়ে জোর তদন্তে নেমেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। যদিও বাসিন্দাদের অনুমান বড়সড় কোনও পাচার চক্রের সাথেই জড়িত ওই অভিযুক্তরা। লজে বসে থেকেই লুপ্তপ্রায় ওই প্রাণীর দেহ পাচারের কাজ চালাচ্ছিলেন তারা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা অমিত ভট্টাচার্য বলেন, এলাকায় পচা দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়েই ওই যুবকদের ধরা হয়েছে। যাদের কাছ থেকে বেশকিছু সাপের চামড়া ও হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছে। পাশ্ববর্তী একটি লজে থেকে বড়সড় কোনও পাচার কাজ চালাচ্ছিলেন তারা।

যদিও ধৃত যুবকদের মধ্যে জয় মালী ও সান্নি যাদবরা জানিয়েছে, মাংস খাওয়ার জন্য তারা চারটি গোসাপ ধরেছিলেন। যা খেয়েই চামড়াগুলো অন্যত্র ফেলতে গিয়েই বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যান তারা। অন্য কোনও উদ্দেশ্য থেকে একাজ
করেননি তারা।

বালুরঘাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, আটক যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *