পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ জুলাই: এক ভাজা বিক্রেতার রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। রবিবার সকালে বালুরঘাট দমকল কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। স্থানীয় একটি দোকান ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বনাথ মহন্ত (৬৭)। পেশায় ভাজা বিক্রেতা। বালুরঘাটের ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের হোসেনপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, পেশায় ভাজা বিক্রেতা হোসেনপুরের বাসিন্দা বিশ্বনাথবাবু পারিবারিক অশান্তির জেরে গত পাঁচ বছর ধরে দমকল কেন্দ্রের সামনে নিজের দোকানেই বসবাস করতেন। রান্না থেকে খাওয়া সবকিছু তিনি একাই করতেন। রোজকার মতো এদিন সকালেও দোকান ঘরের বাইরে বেশকিছুক্ষণ বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। বাজারও করতে দেখেন স্থানীয়রা। আর তারপরেই ওই দোকান ঘরের ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় ওই ভাজা বিক্রেতাকে। আর যাকে ঘিরেই তুমুল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এলাকায়।

ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। এদিকে এমন খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে আসে পরিবারের সদস্যরাও। কি কারণে তার এমন আত্মহত্যা, যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়। যদিও পাশ্ববর্তী ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, লকডাউনের জেরে ভাজা বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রোজগার তেমন ছিল না। যার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও সে যুক্তি মানতে নারাজ তার পরিবারের লোকেরা।
মৃতের ছেলে মিঠু কুমার মহন্ত জানিয়েছেন, পারিবারিক অশান্তির জেরে দীর্ঘবছর ধরে তার বাবা বাড়িতে থাকতেন না। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে পরিবারের সকলেই সন্দিহান। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
দীনেশ দাস নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, জেলা সংশোধনাগারের বাইরে বসে সারাদিন ভাজা বিক্রি করত। পারিবারিক অশান্তিও ছিল। কাউকে কিছু বলতো না। কি জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিল তা তাদের অজানা।

