জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২০ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের ১০৮ টি পৌরসভার সবকটিরই দখল নেওয়ার শ্লোগান তুলে ময়দানে নামলেও বিভিন্ন পৌরসভায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। কিছু পৌরসভাতে একদল নেতা এখনো প্রচারেই নামেননি। কোথাও দলের প্রার্থীকেই লাঠিপেটা করছেন আরেক গোষ্ঠীর নেতা। ঘাটাল মহকুমায় এমন ঘটনারও সাক্ষী থাকছেন ভোটাররা। জেলার ৭ পুরসভার ৫ টিই রয়েছে ঘাটাল মহকুমায়। জানা গেছে, সেই ৫ পুরসভারই অন্যতম খড়ার পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে গিয়ে দলেরই এক নেতা আরেক নেতার হাতে প্রহৃত হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সূত্রের খবর, পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক অরূপ রায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন। শনিবার তাঁর ওয়ার্ডে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি চলছিল। নির্বাচনী প্রচারে বেড়িয়ে জনসংযোগের জন্য অরূপবাবু সেই ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। শিবিরে ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি অনুপ জানা। যে সব দলীয় কর্মীরা লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের সহযোগিতা করছিলেন অনুপবাবু তাদের কাজে তদারকি করছিলেন। অরুপ রায় সেখানে পৌঁছোতেই দু’জনের মধ্যে প্রথমে বচসা ও পরে মারধর, লাঠালাঠি শুরু হয়ে যায়। ঘটনায় গুরুতর ভাবে জখম হয়ে দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি অনুপ জানা এবার নির্বাচনী প্রচারে অংশই নেননি।
অন্যদিকে চন্দ্রকোনা পৌরসভাতেও একই রকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবি দেখা গেছে। সেখানকার ১২ টি ওয়ার্ডের প্রার্থীদের সমর্থনে জোর কদমে প্রচার চললেও প্রচারে নামেননি চন্দ্রকোনা ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জগজিৎ সরকার, চন্দ্রকোনা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হীরালাল ঘোষ ও তাদের অনুগামীরা। দলের ব্লক সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নির্বাচনী প্রচারে না নামায় জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। স্পষ্ট হয়েছে চন্দ্রকোনা শহর তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক গোষ্ঠী বনাম ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির গোষ্ঠীর কোন্দল।
যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি মানতে চাননি তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা নির্বাচনী লড়াইয়ের দায়িত্বে থাকা আশিষ হুদাইত জানান, “ঘাটাল সাংগঠনিক জেলায় কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় হয়ত কয়েকজন নেতা প্রচারে নামতে পারেনি। আগামীদিনে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়বে।
তবে জেলা সভাপতির এই আশায় জল ঢেলে
চন্দ্রকোনা- ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হীরালাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘পৌর নির্বাচন ঘোষণার পর জেলা সভাপতি আমাদের ডেকেছিলেন। বেশ কয়েকটি মিটিংয়ে আমরা গিয়েও ছিলাম। কিন্তু সেখানে আমাদের উদ্দেশ্যে বিধায়কের শিবিরের পক্ষ থেকে যেভাবে চরম অসম্মান জনক কথাবার্তা বলা হয়েছে। তারপর এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া যায় না। কারণ পুর এলাকার নেতারা চাননা যে ব্লক সংগঠনের কোনও নেতা নির্বাচনে মাথা গলাক।
জানাগেছে, চন্দ্রকোনা শহর তৃণমূল সভাপতি প্রদীপ সাঁতরা ও চন্দ্রকোনার বিধায়ক অরূপ ধাড়া এক গোষ্ঠীর নেতা এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হীরালাল ঘোষ ও ব্লক সভাপতি জগজিৎ সরকার আরেক গোষ্ঠীর নেতা। এই দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বই প্রকাশ্যে এসেছে। বিধায়ক অরূপ ধাড়া বলেন, বিধায়ক হিসাবে সমস্ত নেতা কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারের জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম।কেউ যদি না এসে থাকে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার এনিয়ে আমার কিছু বলার নেই।

