Supreme Court, Commission, কমিশনের করা প্রসাশনিক রদবদলে হস্তক্ষেপ নয়, ভোটের মুখে রাজ্যের অভিযোগকে আপাতত মান্যতা দিল না সুপ্রিম কোর্ট

আমাদের ভারত, ১৬ এপ্রিল: রাজের মুখ্য সচিব থেকে শুরু করে বিডিও ও ওসি’দের একসাথে বদলি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন দাবি করে রাজ্যের শাসক দল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কমিশনের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তারা এখনই হস্তক্ষেপ করবেন না। মামলাটি বিচারাধীন রাখা হয়েছে।

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, কমিশনের যেমন রাজ্য প্রশাসনের উপর আস্থা নেই, তেমনি রাজ্যেরও কমিশনের উপর পূর্ণ ভরসা নেই। এই আস্থার ঘাটতির কারণে অনেক সময় আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ১১০০ জন অফিসারের বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন, যাদের বদলি করা হয়েছে তারা তো পশ্চিমবঙ্গের ক্যাডারের অফিসার। তবে পক্ষপাতের অভিযোগ কেন? তিনি আরো যোগ করেন, অন্য রাজ্যের পর্যবেক্ষক ও আধিকারিকরা অনেক সময় নিরপেক্ষতার দিক থেকে আদর্শ হতে পারে।

তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাওয়াল করে বলেন, উপনির্বাচনের সময়ও রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল, কিন্তু এবার কোনো আলোচনা ছাড়াই নজিরবিহীনভাবে মুখ্য সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কল্যাণের দাবি, মুখ্য সচিব কিছু প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন বলেই তাকে সরানো হয়েছে। কেবল মতভেদ কি বদলির কারণ হতে পারে? এর জবাবে প্রধান বিচারপতি জানান, যদি বাইরের রাজ্য থেকে অফিসার এনে বসানো হতো তবে হস্তক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারত।

এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ এই মামলা খারিজ করে দিয়েছিল। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, নির্বাচন কমিশনের ওপর এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে প্রতিটি বদলির কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।বদলি তো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে, তা মেনে নেওয়া প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্ট এদিন কার্যত হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে বহাল রাখল।

গত ১৫ মে রাজ্যে ভোট ঘোষণার রাতেই মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দেয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৬৭ জন বিডিও ও ওসিকে সরানো হয়। প্রশাসনের এই বদলি নিয়েই আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল রাজ্য, কিন্তু শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথম দফা ভোটের আগে কমিশনের হাতই যে আরো শক্ত হলো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *