আদালতের নির্দেশ মেনে মঞ্চ খুলল বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা

আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ৯ সেপ্টেম্বর: পড়ুয়ারা অবস্থান মঞ্চ খুলে নিয়েছেন। আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিতে সাময়িক স্থগিত করেছেন তাদের বিক্ষোভ। কিন্তু বিশ্বভারতীর তরফে এখনও কোনরকম সাড়া পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশের পরে প্রায় ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও বহিষ্কৃত পড়ুয়ারা পায়নি ক্লাস করার কোনওরকম লিখিত অনুমতি। অথচ বুধবার কলকাতা উচ্চ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বহিষ্কৃত পড়ুয়াদের অবিলম্বে ক্লাসে ফেরানোর। সেই নির্দেশের পরেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই মনোভাব আদালত অবমাননারই সামিল বলে সরব হয়েছেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।

বুধবার আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের করা মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে কলকাতা উচ্চ আদালতের বিচারক রাজাশেখর মান্থা পড়ুয়াদের বহিষ্কারের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে বহিষ্কৃত পড়ুয়াদের অবিলম্বে ক্লাসে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি উপাচার্যের উদ্দেশ্যে বিচারকের স্পষ্ট পর্যবেক্ষন, ‘উপাচার্য যদি নিজেকে আইনের ঊর্দ্ধে মনে করেন তাহলে তা ঠিক নয়।’ কিন্তু তারপরেও এখনও পর্যন্ত পড়ুয়ারা কোনওরকম সাড়া পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে।

এদিন সকালেই বহিষ্কৃত তিন পড়ুয়া সোমনাথ সৌ, রূপা চক্রবর্তী ও ফাল্গুনী পান তিনজনেই ক্লাস করতে চেয়ে ই-মেল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ কর্মসচিবকে। কিন্তু তার কোনও উত্তর মেলেনি। অপর দিকে আদালতে ক্যাম্পাস থেকে অবস্থান, বিক্ষোভ প্রত্যাহারের যে নির্দেশ দিয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন পড়ুয়ারা। বুধবার দেওয়া আদালতের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পড়ুয়ারা তোড়জোর শুরু করেন অবস্থান মঞ্চ খোলার জন্য। বিকেলের মধ্যে মঞ্চস্থল ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। ব্যানার, পোস্টার যাবতীয় যা ছিল সব সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত পড়ুয়া সোমনাথ সৌ ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন, “আমরা আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়েছি। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তা অবমাননা করেছে। আদালত যে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে তার মধ্যে আমাদের তরফে যা যা করার তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে করেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ক্লাসে যোগ দেওয়ার কোনও অনুমতি আমাদের দেয়নি। ক্লাসের অনুমতি চেয়ে এদিন সকালেই আমরা বহিষ্কৃত তিন পড়ুয়া ই-মেল করেছি কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু তার কোনও উত্তর পাইনি।”

কলকাতা উচ্চ আদালতের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে হওয়া বিশ্বভারতীর করা মামলার শুনানী শেষে বিচারপতির দেওয়া নির্দেশে জোর ধাক্কা খেয়েছেন উপাচার্য বলেই মত সকলের। উপাচার্যের উদ্দেশ্যে বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষন, “উপাচার্য যদি নিজেকে আইনের ঊর্দ্ধে বলে মনে করেন তাহলে তা ঠিক নয়।” আদালতে পড়ুয়াদের হয়ে সওয়াল করেছেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা। বিকাশ ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছিলেন, “বিচারক বলেছেন পড়ুয়াদের আন্দোলন প্রত্যাহার করা হোক, আদালত সব দেখবে।” এখন দেখার আগামী দিনে বিচারক কি নির্দেশ দিচ্ছেন। কারণ বিচারক আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বলেছেন, পড়ুয়ারা তা করেছে। কিন্তু বিচারক বহিষ্কৃত পড়ুয়াদের অবিলম্বে ক্লাসের ফেরানোর যে নির্দেশ দিয়েছেন সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত নূন্যতম কোনও নড়াচড়া দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত পড়ুয়া ও অধ্যাপকরা।

অধ্যাপক সংগঠন ভিবিউফার সভাপতি সুদীপ্ত ভট্টাচার্য যেমনটা বলেছেন, “আদালতের নির্দেশের পর তা পড়ুয়ারা যত দ্রুত সম্ভব পালন করেছে। আপাতত তারা স্থগিত করেছে তাদের আন্দোলন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ এখনও মানেননি। আমরা আগামী বুধবার আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে তাকিয়ে আছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *