আমাদের ভারত, ৩ জানুয়ারি: “করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আগাম সতর্কতা এবং অত্যন্ত সংক্রামিত ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতির বিপদ সংকেত থাকা সত্বেও রাজ্য সরকার কোনও রকম আগাম সতর্কতা নেয়নি”, সোমবার এই অভিযোগ করলেন ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপ্ত চিকিৎসক অরুণোদয় মন্ডল। সোমবার তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “২৫ ডিসেম্বরের বড়দিন, ৩১ ডিসেম্বরের বর্ষশেষ ও বর্ষবরণ, এমনকি ১ জানুয়ারির নববর্ষের প্রাক্কালে বিভিন্ন পার্কে, পার্ক স্ট্রিট সহ অন্যান্য জায়গায় সমাবেশ হয়েছে। এছাড়াও অতি সম্প্রতি লেক টাউন সংলগ্ন ভিআইপি রোডের পাশে একজন মন্ত্রী মহোদয়ের অনুপ্রেরনায় জনসমাবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এগুলো অত্যন্ত অনৈতিক, অনভিপ্রেত ও গর্হিত কাজ।
প্রায়শই রাস্তাঘাটে এবং এই সমস্ত জনসমাবেশে বহু মানুষ উপযুক্ত মানের মাস্ক না পরে উৎসবে মেতে ওঠেন। সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একদিকে জনসচেতনতার অভাব, অন্যদিকে প্রশাসনিক অপদার্থতার কারণে সাধারণ মানুষকে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। মানুষকে কঠোর ভাবে সঠিক গুণমানের মাস্ক সঠিক ভাবে পরতে বাধ্য করা কি খুবই কঠিন কাজ? অথচ প্রশাসনিক তৎপরতার চিহ্নমাত্র দেখতে পাওয়া গেলো না।
কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেই প্রশাসন লোকাল ট্রেন ও স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেয়। এটা সীমাহীন অপদার্থতার লক্ষ্মণ। লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভর করে গ্রামের প্রান্তিক মানুষরা অনেকেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। একটু পরিকল্পিত ভাবে অপেক্ষাকৃত বেশি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নিয়ে এবং প্রতিটি ক্লাসকে তিন চারটি গ্রুপে ভাগ করে করোনাবিধি মেনে স্কুল চালু করা চলে। এতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
মেলা-উৎসবে জমায়েত হওয়া মানুষজনের তুলনায় স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা অনেক বেশি শৃঙ্খলা পরায়ন। এভাবে স্কুল কলেজের পঠন পাঠন বন্ধ করে দিলে ভবিষ্যতে স্কুল কলেজে ছাত্র ছাত্রী পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। একটি সমাজ ক্রমশ পঙ্গু হয়ে পড়বে। তাতে অবশ্য রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের কোনও ক্ষতি হবে না। বরং তাঁদের মৌরাসিপাট্টা বাড়বে। কারণ অশিক্ষা, অস্বাস্থ্য ও দারিদ্রতা নিয়েই রাজনীতি আবর্তিত হয়।
আতঙ্কিত হচ্ছি আগামী দিনের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী ও পুলিশদের উপর কী নিদারুণ অমানসিক চাপ সহ্য করতে হবে। কারণ তারাই তো সামনের সারির যোদ্ধা। রাজনৈতিক নেতারা নিরাপদ দূরত্বে থেকে ঢিল ছুঁড়বেন। এটাই তখন তাঁদের একমাত্র কাজ হবে।“

