রাজেন রায়, কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর: মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতে পারে শুভেন্দু অধিকারীকে। সোমবার এমন দাবি করার পরেই শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ দিয়েছে হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্ট শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ দেওয়ার পর আজ সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিঙ্গেল বেঞ্চ শুভেন্দুর গ্রেফতারির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মঙ্গলবার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাল রাজ্য সরকার।
শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন দেহরক্ষী খুনের মামলা-সহ তিনটি মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থার সিঙ্গলবেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করল রাজ্যের। কাল শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে।
প্রসঙ্গত, গতকালই এই মামলায় বিচারপতি রাজশেখর মান্থা উল্লেখ করেন, ‘গ্রেফতার আসলে প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই দেশে এটাই প্রচলিত, কোনও নতুন কিছু নয়। এক্ষেত্রে খুন হওয়ার তিন বছরে কিছু হয়নি৷ এমনকি নিহতের স্ত্রীও আদালতে আসেননি। এটাই উদ্বেগের।’ তিনি আরও বলেন, ‘বলছি না তদন্ত করবেন না। গ্রহণযোগ্য কিন্তু এই মুহূর্তে জরুরি কি না সেটা দেখতে হবে।’ গতকাল শুভেন্দুর বিরুদ্ধে হওয়া পাঁচটি মামলার শুনানি হয়, তার মধ্যে তিনটি মামলার তদন্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
দেহরক্ষী খুনের মামলায় বিচারপতি রাজশেখর মান্থা প্রশ্ন করেন, “কোনও বিশেষ কারণ আছে কি? যার জন্য এই মামলার নতুন করে তদন্ত করতে হচ্ছে?” জবাবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পাল্টা প্রশ্ন করেন, “শুভেন্দু কেন সিবিআই তদন্তের কথা বলছেন? একজন বিরোধী দলের নেতা, একজন বিধায়ক কিভাবে তদন্ত এড়াতে পারেন?” এরপর বিচারপতি আরও বলেন, ‘তিন বছর প্রয়োজন হল না কাউকে জিজ্ঞেস করার। এখন কি পরিবেশ বদলাল, যে তদন্ত পুনরায় শুরু করা হল? অ্যাডভোকেট জেনারেলের উত্তর ছিল, “প্রাথমিক তদন্ত চলছিল। এবার আসল তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজন হয়।”

