স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৪ এপ্রিল: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন জনমুখি প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছতে বলছেন বারংবার, অন্যদিকে বিরোধীরা কাটমানি স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে থাকেন মাঝেমধ্যেই। সেই কারণে শান্তিপুর পৌরসভা স্বচ্ছতার জন্য গৃহ আবাস প্রকল্পের কাগজপত্র পৌরসভায় শিবির করে সরাসরি জমা নিচ্ছে। বিভিন্ন ভাতা প্রাপকরা বেঁচে আছেন কিনা অথবা তারা প্রকৃতপক্ষে ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান। ঠিক তখনই চরম বেনিয়ম ধরা পড়ল সাংবাদিকদের কাছে।
শান্তিপুর পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ডক্টর বিসি রায় রোডের বাসিন্দা মাধাই ঘোষ নিজে বার্ধক্য ভাতা উপভোক্তা। স্ত্রী আভা ঘোষের ৫৯ বছর বয়স হলেও বার্ধক্য ভাতার তালিকাভুক্ত হয়েছেন কয়েক বছর আগে। তাদের ছেলে একজন অধ্যাপক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৬০ বছর অতিক্রান্ত হলে তবেই মেলে বার্ধক্য ভাতা, তাও পারিবারিক আয়ের উর্ধ্বসীমা, বাড়ির ভ্যালুয়েশন, পরিবারের সরকারি চাকরি কেউ করেন কিনা সে সমস্ত তথ্য যাচাই করে তবেই বার্ধক্য ভাতার নাম নথিভুক্ত করা হয়।
পরিবারের একজন পৌরসভার কর্মী হওয়ার কারণেই হয়তো উপভোক্তার বয়স ৫৯ বছর হলেও প্রতিমাসে নিয়ম করে বেশ কয়েক বছর যাবৎ ভাতা পাচ্ছেন অধ্যাপকের পিতা মাতা দুজনেই। উঠেছে সেই প্রশ্ন।
শুধু এখানেই শেষ নয়, সুবিশাল অট্টালিকায় বসবাস। একমাত্র ছেলে সুমিত ঘোষ মুর্শিদাবাদ বেলডাঙা কলেজের অধ্যাপক, সুমিতবাবুর বিবাহিতা বোনও সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
ঘটনা জানাজানি হতে এলাকার দরিদ্র বয়স্করা ঘোষ পরিবারের গগনচুম্বী অট্টালিকার দিকে আঙুল তুলেছেন। তারা বলেন ওই পরিবারের এক ভাইপো শান্তিপুর পৌরসভায় কর্মচারী হিসেবে কর্মরত, তাই হয়তো সেই কারণেই সঠিক অনুসন্ধান হয়নি। আর আমারা ষাটোর্ধ্ব হওয়ার পরেও দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আবেদন জমা পড়ে রয়েছে শান্তিপুর পৌরসভায়। স্বজনপোষণ, নাকি পৌর কর্মীদের উদাসীনতা?
আমরা খোঁজ নিয়েছিলাম শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের কাছে। তিনি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছি পৌর কর্মচারীদের, ভুল হলে নিশ্চয়ই শাস্তি পাবে।
ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শুভজিৎ দে, বৃদ্ধের বার্ধক্য ভাতা কথা জানলেও তার স্ত্রীর ভাতা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে অধ্যাপক সুমিত ঘোষের বাড়িতে গেলে উত্তেজিত অবস্থায় অধ্যাপক সাংবাদিককে বক্তব্য তো দূরে থাক ছবি তুলতে পর্যন্ত বাধা দেন।
শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা কারও খারাপ থাকতেই পারে, সেই সময় কেউ যদি এই বার্ধক্য ভাতা নিয়ে থাকে তাহলে আলাদা প্রশ্ন, কিন্তু পরবর্তীতে যদি কারো আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসে তাহলে তো নিজে থেকেই এটা কাটিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। আর একজন প্রফেসরের বাবা বার্ধক্য ভাতার উপভোক্তা এটাতো ছেলে হয়ে তারই লজ্জা। এটাতো একজন গরিব মানুষ পেতে পারতো। সেটা তো নিজে থেকেই কাটিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।

