রাজেন রায়, কলকাতা, ২১ মে: করোনা মহামারীর সঙ্কটের মধ্যেই এবার সাঁড়াশি আক্রমণে চোখ রাঙাচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। ফের কলকাতায় ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে মৃত্যু হল এক রোগীর। হরিদেবপুরের বাসিন্দা ৩২ বছরের ওই মহিলা শম্পা চক্রবর্তী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ১৩ মে থেকে ভর্তি ছিলেন শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, করোনার পাশাপাশি, তিনি মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ অ্যাম্ফোটিরিসিন-বি দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার ভোরে মৃত্যু হয় ওই রোগীর। এইনিয়ে করোনা ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটল কলকাতায়। এর আগে মৃত্যু হয় শহরতলির এক বাসিন্দার।
এদিকে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের পরিস্থিতিতে নতুন গাইডলাইন জারি করল স্বাস্থ্য দফতর। গাইডলাইনে উল্লেখ, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ এড়াতে মাস্কের সঠিক ব্যবহার জরুরি। বিশেষ করে ধুলোবালিময় এলাকা বা নির্মাণস্থলে গেলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। বাগানে বা মাটি নিয়ে কাজ করলে, জুতো, লম্বা ঝুলের ট্রাউজার, ফুল স্লিভ শার্ট এবং গ্লাভস পরা জরুরি। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কোভিড-পরবর্তী ও ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্লাডে গ্লুকোজের মাত্রায় নজর রাখতে হবে। স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার সতর্কতা জরুরি।
একইসঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মোকাবিলায় ২২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ-পরামর্শদাতা কমিটি গঠন করল স্বাস্থ্য দফতর। এই কমিটি রাজ্যে মিউকরমাইকোসিস পরিস্থিতি ও তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় তদারকি করবে।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, এসএসকেএম ও ক্যালকাটা স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন, এই দুটির মধ্যে যে কোনও একটি হাসপাতালকে মিউকরমাইকোসিসের চিকিৎসায় উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ভাবা হচ্ছে।

