সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৭ জানুয়ারি: এক যুবতী বধূর পচা গলা দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বড়জোড়া থানার হাট আশুড়িয়ার সরালী গ্রামে। আজ সকালে পুলিশ এই দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম আয়েষা বিবি (২৫)। মৃতার স্বামী হাসিবুল শেখ পলাতক। গ্রামেই আয়েষার বাপের বাড়ি। স্বামী হাসিবুল শেখের বাড়ি কোথায় তা গ্রামের কেউ জানেন না। তবে হাসিবুল বীরভূমের নলহাটির বাসিন্দা বলে শ্বশুর বাড়িতে জানিয়েছিল। ১৪-১৫ বছর আগে সে গ্রামে আসে। তারপর হত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আয়েষাকে বিয়ে করে। আয়েষার বাবা মরাই মোল্লা, মেয়ে জামাইকে একটি ছোটো মত ঘরও করে দেন। একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে তাদের।সে স্থানীয় হাট আশুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। মরাই মোল্লা জানান, বিয়ের পর থেকেই জামাই মেয়ের উপর নির্যাতন করত। প্রায় দিন মদ খেয়ে এসে মারধর করতো। সব ঠিক হয়ে যাবে এই ভেবে মিটমাট করে দিতাম। এর আগে আরো দুবার সে বিয়ে করছিল বলে জানতে পেরেছি। আগের পক্ষের ছেলেমেয়েও আছে।
মরাই মোল্লা জানান, এমনও হয়েছে রাত ২ টার সময় মারধর করে মেয়ে ও নাতিকে বের করে দিত। তিনি বলেন, গত বুধবার দিন জামাইয়ের বোন ভগ্নীপতি আসে। তারপর তারা নাতিকে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে ফোন করে জানায় তারা আয়ষাকে নিয়ে কয়েক দিনের জন্য বাইরে যাবে। আমরা কোনো সন্দেহ জনক কিছু বুঝতে পারিনি। শুক্রবার সকালে প্রতিবেশীরা মেয়ের বাড়ি থেকে পচা গন্ধ পেয়ে আমাদের খবর দেন। তারপর দরজার তালা ভেঙ্গে দেখি গলায় গামছার ফাঁস লাগানো অবস্থায় মেয়ে বিছানায় পড়ে রয়েছে।
খবর পেয়ে গ্রামে আসেন বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জি। তিনি মৃতার পরিবারের লোকজনকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, কিছু লোক এইসব গ্রামে এসে দরিদ্র পরিবারগুলিতে ভাব জমিয়ে দারিদ্র্যতার সুযোগে মেয়েদের বিয়ে করে। কেউ থেকে যায়। আবার কেউ বিয়ে করে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি দোষীদের ধরে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মোরাই মোল্লার অভিযোগ পেয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্ত হাসিবুল শেখ ও তার বোন ভগ্নীপতির সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।

