আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম ১ জুন: তৃণমূলের ব্লক কমিটির মিটিংয়ে প্রকাশ্যে উঠে এলো তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। প্রকাশ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন। বাধ্য হয়ে একটি অঞ্চল কমিটি ভেঙে দিলেন দলের ব্লক সভাপতি বিভাস চন্দ্র অধিকারী।
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেই কারণে ব্লকে ব্লকে কর্মীদের ডেকে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। সেই নির্দেশ মেনে বুধবার নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের নব হিমাইতপুর গ্রামে অনুকূল আশ্রমে কর্মী সভা ডাকেন ব্লক সভাপতি বিভাস চন্দ্র অধিকারী। সভায় বারা ২ নম্বর অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ওঠে। পাল্টা অভিযোগ তোলা হয় নলহাটি ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মহসিন মণ্ডলের বিরুদ্ধেও। সভা উত্তপ্ত হওয়ায় বারা ২ নম্বর অঞ্চল কমিটি আপাতত ভেঙে দেন ব্লক সভাপতি। তিনি বলেন, “জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এবং দলনেত্রীর নির্দেশ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না। তাছাড়া অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য, বুথ সভাপতিরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তাই আমি আপাতত অঞ্চল কমিটি ভেঙে দিয়েছি। এরপর দলের জেলা নেতৃত্ব যে নির্দেশ দেবেন সেভাবে কাজ করব”।
অঞ্চল সভাপতি মহম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, “পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মহসিন মণ্ডল দুর্নীতিগ্রস্থ। তাছাড়া বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জোট প্রার্থীর হয়ে ভোট করেছিলেন। সেই কারণেই আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। ব্লক নেতৃত্ব আপাতত কমিটি ভেঙে দিয়েছে। পরবর্তীকালে কি হয় তাঁর দিকে লক্ষ্য রখাছি”।
সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অঞ্চল সভাপতিকেই দুর্নীতিগ্রস্থ বললেন মহসিন মণ্ডল। তিনি বলেন, “তাঁর জন্য এলাকায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ বুথ সভাপতি, পঞ্চায়েত সদস্য এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগ পত্র ব্লক সভাপতির হাতে জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা কমিটির নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে”।

