সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২১ ফেব্রুয়ারি: “ইনভেস্ট আর ইনকামের রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে দূর করতে হবে”, পুরুলিয়া জেলায় পুরভোটের প্রচারে এসে সরাসরি তৃণমূলকে তোপ দাগলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ ঘোষ। পুরুলিয়ায় ভোট প্রচারে এসে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধতে
ছাড়েননি তিনি। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য “কন্ট্রাক্টর লাগিয়ে রাজনৈতিক দল চলে না”। এ বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কন্ট্রাক্টরকে নিয়ে এসেছিল জেতার জন্য। তাকে আবার তাড়িয়েওছে। এখানে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কন্ট্রাক্টর কাজ করছে। পুরুলিয়াতে সব কন্ট্রাক্টররাই ক্যান্ডিডেট হয়েছেন কাউন্সিলার হওয়ার জন্য। তারা পয়সা কামাবে না কি মানুষের সেবা করবে? যেটা লুটেছে ওটাই খরচা করছে। এই যে ইনভেস্ট আর ইমকামের রাজনীতি, তা পশ্চিমবঙ্গ থেকে দূর করতে হবে।”
অন্যদিকে, প্রকাশ্য জনসভায় উদাহরণ স্বরূপ সিপিআইএমকে কুকুরের সাথে তুলনা করেছেন অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। এই মন্তব্য প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল দুর্বৃত্বদের পার্টি, সমাজবিরোধীদের দল। বাংলার সংস্কৃতিকে মাটিতে মিলিয়ে দিয়েছে।” পুরুলিয়ায় নির্বাচনী প্রচারে এসে কার্যত এই ভাষাতেই তৃণমূললে তুলোধোনা করেন বিজেপি সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই সরকারের আমলে স্বচ্ছ ভাবে পরীক্ষা হয় না, ফলাফল প্রকাশ হয় না, নিয়োগ হয় না। তাই মানুষকে বার বার কোর্টে যেতে হয়। আর হাইকোর্ট বার বার সিবিআই তদন্তের কথা বলছেন। এই রাজ্য সরকার বাজেট করতে পারছে না, পয়সা নেই। আর মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এর চেয়ে দুঃখের বিষয় কী হতে পারে।”
পুরুলিয়ার তিনটি পুরসভায় গেরুয়া ঝড় তুলতে হাজির ছিলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ সকাল সকাল কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রঘুনাথপুর শহরে প্রাতঃভ্রমণ করেন, পরে চা চক্রে সামিল হন। রঘুনাথপুর পুরসভার দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে প্রচার করেন। পৌরসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড় উঠবে বলে আশাবাদী দিলীপ ঘোষ। বেলার দিকে পুরুলিয়া পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধবঘাটা এলাকা থেকে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিছিল শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে শহরের রথতলা মোড় এবং চকবাজারের একাংশ পরিক্রমা করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে এসে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে একটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন দিলীপ ঘোষ। বিকেলে ঝালদা পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সাসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, দলীয় বিধায়ক ও বিজেপির সাংগঠনিক পদাধিকারীরা।

