সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২১ ফেব্রুয়ারি: আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যে ভাষা আমাদের গর্ব, ভালোবাসা ও স্নেহের আলোয় জর্জরিত, সেই ভাষারই উদযাপনের দিনটি হল আজ।বাংলাদেশে বহু মানুষ তাদের মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। তাদের সকলকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে আজ পেট্রাপোল সীমান্তে পালিত হল ভাষা শহিদ দিবস।
“মোদের গর্ব মোদের আশা, আহা মরি বাংলা ভাষা”। প্রতিবছর এই দিনটিতে দু’পারের ভাষা প্রেমী মানুষ দেশভাগের কাঁটাতার উপেক্ষা করে একত্রিত হন। নোম্যান্সল্যান্ডে শহিদ বেদীতে মালাদান করে, দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে নোম্যান্সল্যান্ডে চলে যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যতিক্রম ঘটলো কিছুটা। দু’দেশে আলাদা আলাদা ভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হলো আজকের দিনটি। কোভিড প্রটোকল এবং প্রশাসনিক নির্দেশে এবছর দুপারের দু’দেশের মানুষ মিলিত হয়ে দিনটি উদযাপন করতে পারলেন না। কিন্তু ভিন্নভাবে ভারত-বাংলাদেশ পেট্রাপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হচ্ছে।

এদিন সকালে ছয়ঘড়িয়া পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পেট্রাপোল সীমান্তে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন নোম্যান্সল্যান্ডে বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, দলনেত্রী আলোরানী সরকার, ছয়ঘড়িয়া পঞ্চায়েতের প্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিরাও আসেন। সকলেই মালা ও মিষ্টি নিয়ে উপস্থিত হন। শহিদ বেদীতে যৌথভাবে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে মাল্যদান করেন তারা। আজকের
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জন প্রতিনিধিরা জানান, “২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ও অনুপ্রেরণায় ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে আন্তর্জাতিক ভাষা শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়। ভাষা দিবসের উদযাপন অনুষ্ঠান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও এ দেশের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে এক অটুট সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করে। যার ফলস্বরূপ প্রতি বছর এই দিনটিতে দুই দেশের মানুষ একত্রিত হন। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি কারণে এই বছর তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবুও দু’দেশ একই সাথে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশের শহিদদের। যারা আমাদের ভাষার জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন’।”
দুই বাংলার দিগন্ত আজ শিমুলে-পলাশে রাঙা। লড়াই ছিল ভাষার জন্য। নিজের মাতৃভাষা বাঁচানোর লড়াই। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষা আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর পুলিশের নির্মম গুলি চালানোর ঘটনা ইতিহাসে এক রক্তক্ষয়ী ছাপ রেখে গেছে। এই দিনটি প্রথমে শহিদ দিবস হিসেবে পালন হত বাংলাদেশে। তবে ২০১০ সালের ৫ অগাস্ট রাষ্ট্রসংঘ সিদ্ধান্ত নেয় যে একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হবে।

